https://www.emjanews.com/

18711

sports

প্রকাশিত

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৪১

আপডেট

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৫৯

খেলাধুলা

এশিয়ান গেমসে প্রথমবার, ইতিহাস গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ বীচ ভলিবল দল

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৪১

ছবি: সংগৃহীত

জাপানের আইচি–নাগোয়ায় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ২০তম এশিয়ান গেমস ২০২৬। এবারের আসরে বাংলাদেশ থেকে ক্রীড়াবিদ, কোচ ও ম্যানেজারসহ মোট ২৬০ জন অংশ নেবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ও মহিলা বীচ ভলিবল দলের পাঁচ সদস্য।

এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া আসর এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ বীচ ভলিবল দল। পুরুষ ও মহিলা- দুই বিভাগেই এবারের আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।

এশিয়ান গেমসের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ দেশের বীচ ভলিবলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।

প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের ভলিবল ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সৈকত রাকেশ। সম্প্রতি ভুটান সফরকে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক সৈকত রাকেশ। তাঁর মতে, দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বড় দলগুলোর বিপক্ষে লড়াইয়ের সাহস বাড়িয়েছে।

ইমজা নিউজকে সৈকত রাকেশ বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে ভলিবলে অংশগ্রহণ করতে পারছি- এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দ ও গর্বের বিষয়। ভুটান সফরটি আমাদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বেশ কাজে দিয়েছে। সেখানে খেলার মাধ্যমে আমরা নিজেদের আরও ভালোভাবে যাচাই করার সুযোগ পেয়েছি।’

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সাফল্য আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলেও জানান তিনি। সৈকত বলেন, ‘গেল জুলাইয়ে পাকিস্তানে কাভা চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হয়ে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে। দেশের বাইরে খেলার অভিজ্ঞতা একটি দারুণ ব্যাপার। বড় দলের সঙ্গে খেলতে গেলে এই অভিজ্ঞতা আমাদের বাড়তি শক্তি যোগায়।’

পুরুষ দলের পাশাপাশি নারী দলের খেলোয়াড়রাও এশিয়ান গেমস নিয়ে বেশ আশাবাদী। নারী দলের লাকি ও সাবিনারাও মনে করছেন, এশিয়ান গেমস তাদের জন্য নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ। সম্প্রতি ভুটান সফর তাদেরও আন্তর্জাতিক পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সেখানে খেলার মাধ্যমে নিজেদের দুর্বলতা ও শক্তির জায়গাগুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি বড় আন্তর্জাতিক আসরের জন্য মানসিক প্রস্তুতিও আরও দৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

তবে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয় বলে মনে করছেন দলের কোচ ইমরান হায়দার কাঞ্চন। তিনি বলেন, ‘বীচ ভলিবলে আমরা নতুন। বিপরীতে গেমসের অন্যান্য দলগুলো অনেকটাই পেশাদার। তাদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য রয়েছে।’

সম্প্রতি ভুটান সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কোচ বলেন, ‘ভুটান সফরে আমরা দেখেছি, বিদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রকৃতি আমাদের ওপর শারীরিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তবে প্রস্তুতি হিসেবে ভুটান সফরটি ভালো ছিল। ভুটান সফরে আমাদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছি। এই সফরের অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে।’

এশিয়ান গেমসে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে ইমরান হায়দার কাঞ্চন বলেন, ‘জাপানে আমরা অনেক ভালো করব- এমনটাই আশা করি। আমাদের খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করবে।’

আন্তর্জাতিক ভলিবলে অভিজ্ঞ বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় ও বর্তমানে বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুমিন সাদ্দাম বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো বীচ ভলিবলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জানি, এশিয়ার অনেক দেশ এই খেলায় অনেক এগিয়ে এবং তাদের দলগুলো পেশাদার পর্যায়ে খেলছে। তারপরও আমাদের খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও প্রস্তুতি নিয়ে আমরা আশাবাদী।’

তিনি বলেন, ‘কাভা চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হওয়া এবং ভুটান সফরের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বীচ ভলিবলকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ দলের জন্য এটি যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণেরও সুযোগ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচগুলো থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বীচ ভলিবলকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুরুষ ও মহিলা- উভয় দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে প্রতিযোগিতায় ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। বড় মঞ্চে বাংলাদেশের বীচ ভলিবলের এই অভিষেক কতটা স্মরণীয় হয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।