https://www.emjanews.com/

18960

national

প্রকাশিত

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:৪৩

জাতীয়

ইমামের নামে মিথ্যা ধ/র্ষ/ণ মা ম লা দিয়ে ফাঁসলেন নারী

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:৪৩

পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিবসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পায়নি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করার পর আদালত মামলাটি খারিজ করেছেন।

একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে বাদী পটুয়াখালী সদর উপজেলার কলাতলা এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম (৬৩)–এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। ওই নির্দেশের ভিত্তিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন জাহানারা বেগম। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার ১২ বছর বয়সী নাতনি নাইমা রাবেয়াকে মডেল মসজিদের একটি কক্ষে নিয়ে পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. তানভীর হোসেন, খাদেম সাব্বির ও আহমাদুল্লাহ ধর্ষণ করেন।

আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করা হয়। গত ২৯ জুন দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পিবিআই জানায়, অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি; মামলাটি মিথ্যা ও কাল্পনিক।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আলামত বা তথ্য পাওয়া যায়নি এবং শিশুটির মসজিদে যাওয়া-সংক্রান্ত তথ্যেও অসঙ্গতি রয়েছে।

পরবর্তী শুনানি শেষে ২৮ জুলাই ট্রাইব্যুনাল পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সোমবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার আগে মডেল মসজিদে চুরির অভিযোগে জাহানারা বেগমের দুই নাতিকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল। পরে বয়স কম হওয়ায় তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর কিছুদিন পরই ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়।

তবে জাহানারা বেগম দাবি করেছেন, তার নাতিদের আটকের ঘটনার জের ধরেই তিনি মামলা করেছিলেন।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশে জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।