কানাডায় রাজনীতি ও প্রশাসনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান: পাশা খন্দকার
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:৪৭
যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশ ক্যাটারিং অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার এমবিই বলেছেন, কানাডার মূলধারার রাজনীতি, নীতি-নির্ধারণী পর্যায় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কাঠামোর সকল স্তরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের বলিষ্ঠ অবস্থান গড়ে তুলতে হবে। প্রবাসে নতুন প্রজন্মকে যোগ্য করে তোলার মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেদের স্থান তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।
গত রোববার রাতে টরন্টোর ডেনফোর্থে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টের হলরুমে কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পাশা খন্দকার বলেন, আমাদেরকে নিজ শেকড় বা রুট শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে কানাডীয় বাংলাদেশি হিসেবে মূলধারায় আত্মপ্রকাশ ঘটাতে হবে। প্রবাসে নতুন প্রজন্মকে যোগ্য করে তুলতে হবে, যেন তারা প্রশাসনের সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
যুক্তরাজ্য ও কানাডার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্রিটেনে দীর্ঘ পরিশ্রম সত্ত্বেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলক কম। যেখানে ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতরা রাজনীতি ও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেখানে এখনো মাত্র চারজন এমপি নিয়ে আমাদেরকে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। কানাডার পার্লামেন্টেও একই ধরনের চিত্র দেখা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিছিয়ে থাকার দিন শেষ। যোগ্যতার মাধ্যমে কানাডার ক্ষমতার মূল কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
নতুন প্রজন্মের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তারা কানাডার রাজনীতি, প্রশাসন ও অর্থনীতিসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত হয়ে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করবে। তবে অর্জনের এই যাত্রায় মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়কে হৃদয়ে ধারণ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বক্তব্যে তিনি আরও ব্রিটেনে প্রবাসীদের ত্যাগের বিনিময়ে গড়ে ওঠা বহু বিলিয়ন পাউন্ডের ‘ব্রিটিশ কারি শিল্প’-এর সংগ্রাম ও সাফল্যের উদাহরণ টেনে আনেন।
অনুষ্ঠানে দেশ ও সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সততা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন ও জনগণের সেবায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে সিলেটের উন্নয়নে সরকার এবং স্থানীয় দায়িত্বশীলদের ধারাবাহিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে প্রবাসীদের স্বার্থরক্ষায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
কানাডা বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা ইঞ্জিনিয়ার রেজাউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর সাবেক সভাপতি মাহবুব চৌধুরী রনির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে পবিত্র কালামে পাক থেকে তেলাওয়াত করেন কমিউনিটি নেতা রোটারিয়ান মঈন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আহাদ খন্দকার।
সংবর্ধনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন কানাডা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ছাদ চৌধুরী ও মিজানুর রহমান চৌধুরী, কানাডা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তপন মাহমুদ, সাবেক চেয়ারম্যান মিসবাহুল কাদির ফাহিম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর সাবেক সভাপতি জাকির খান, নিউজ ডিপ্লোমেটস সম্পাদক ও প্রকাশক দুলাল আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর সভাপতি সৈয়দ মাহবুব হোসেন, সিলেট সদর অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন রিপন, অন্টারিও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইমন চৌধুরী, গোলাপগঞ্জ ফাউন্ডেশন অব টরন্টোর সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু জহির সাকিব, অর্থ সম্পাদক সিপিএ যুবায়ের আহমেদ, প্রবাসী টিভির সিইও আরিফ হোসেন, সাংবাদিক দিন ইসলাম, আব্দুল বাতিন ফয়সাল, শাহজাহান সেলিম বুলবুল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব লন্ডন অন্টারিওর সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, কমিউনিটি নেতা মকবুল হোসেন, মহসিন আহমদ চৌধুরী, ইউসুফ তালুকদার, লায়েকুল হক চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী রেজা, গিয়াস উদ্দিন, সোহেলুজ্জামান সুহেল, মাসরুর হোসেন রিপন, মিজান চৌধুরী, বাপ্পী রহমান, তানভীর চৌধুরী, সাহেদ আহমদ, নাহিদ আহমদ, বেলাল আহমদ চৌধুরীসহ স্থানীয় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
