শিরোনাম
সিলেটসহ সারাদেশে প্রাথমিকের নতুন শিক্ষকদের পদায়ন পেছালো নিজের ঘর সামলান, তারপর অন্যকে নসিহত: জামায়াতকে প্রধানমন্ত্রী ‘হুজুর মাথা টিপার কথা বলে রুমে ডেকে প্যান্ট খুলে ফেলতেন’-নির্যাতিত শিশুর বর্ণনা কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জিতে তাণ্ডব, ৮ হাজারের অধিক পানগাছ কর্তন​ সিলেটে ভারতীয় অ/স্ত্রসহ কোটি টাকার চালান জব্দ সিলেটে যে ভাইরাসে হলো কিশোরের প্রাণহানী এবার কাজীরবাজার মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ২০২৮ সালের মধ্যে সিলেট অংশের ছয় লেনের কাজ শেষ হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত: কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী: উন্নয়নকাজে অনিয়ম ঠেকাতে দরকার স্থানীয়দের নজরদারি

https://www.emjanews.com/

19225

sylhet

প্রকাশিত

০১ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৫৩

সিলেট

কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জিতে তাণ্ডব, ৮ হাজারের অধিক পানগাছ কর্তন​

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৫৩

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে অবস্থিত নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জিতে ভয়াবহ এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুঞ্জির ৯টি পরিবারের পানজুমের ৮ হাজারের অধিক পানগাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার দিবাগত রাতে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

​ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৩নং কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দা লিকিন খংপ্ডা, পাইলা পতাম, নাসরিন পতাম, জনি পতাম, নিস্তার পাটুয়াট, শিউলি আজিম, টিউনি আজিম, ডিমান পতাম এবং মাসার তংপের- এই ৯টি পরিবারের জুম থেকে পানগাছগুলো কেটে ফেলা হয়।

​ক্ষতিগ্রস্ত জুমের মালিক, নাসরিন পতাম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "কে বা কারা এই কাজ করেছে জানি না। তবে, যে বা যারা এই কাজ করেছে তারা নিশ্চিত জানে, খাসিয়াদের শেষ করার সহজ কৌশল হলো পান গাছ কেটে ফেলা। খাসিয়ারা সারাদিন জুমে কাজ করে জেনেই রাতের আধারে জুমের গাছগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে।"
​নার্সারি পুঞ্জির মান্রী (প্রধান) জনি পতাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "আমরা নিরীহ মানুষ। পান চাষ করেই সংসার চালাই। একটি গাছ ৪ বছর যত্ন করার পর পান পাওয়া যায়। অথচ দায়ের এক কোপে ৪ বছরের পরিশ্রম ও খরচ সব শেষ হয়ে যায়। পুঞ্জির নয়টি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ নিমিষে ধ্বংস হয়ে গেল। আমরা খুব ভয়ে আছি, পানগাছই আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস। ইতোমধ্যে প্রশাসন থেকে সরেজমিন তদন্ত করতে লোক এসেছে; আমরা সঠিক তদন্ত করে দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছি।

​কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, "আমাদের হয়রানির শেষ নেই। কে দেবে আমাদের জীবিকার নিরাপত্তা? এ উত্তর আমার জানা নেই। কেন খাসিয়া পুঞ্জির আদিবাসীদের জীবিকা বারবার হামলার শিকার হবে? দুষ্কৃতিকারীদের বিচার হবে কি না সন্দেহ।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁরা আসার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

​স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে এমন ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পুঞ্জিবাসীর পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসনের জরুরি সহায়তাও কামনা করেছেন তারা।