ছবি: সংগৃহীত
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অন্যকে পরামর্শ দেওয়ার আগে নিজেদের ঘরের দিকে তাকাতে হবে। নিজেদের দলের লোকেরা কীভাবে নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, সেটি আগে সামাল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘একটি গুপ্ত রাজনৈতিক দলের নেতারা আমাদের নসিহত করছে- আপনারা এটা করেন, আপনারা ওটা করেন। আজকে এখানে হাজারো লক্ষ মানুষের সামনে আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, দয়া করে নিজের ঘরের দিকে আগে তাকান। নিজের ঘরের লোকেরা কিভাবে নারী নির্যাতন করছে, সেটি আগে সামাল দেন, তারপর অন্যকে কিছু বলতে আসেন।’
তিনি বলেন, অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকাতে হবে। নিজেদের সময়ে নারীদের জন্য এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কী করা হয়েছে, তার হিসাবও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে ভোটের অধিকার ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলায় বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতন, গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এখন গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি ও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ। কৃষকদের জন্য কর্মসূচি, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং মানুষের সুবিধার জন্য নদী-খাল খননের মতো উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে উপকৃত করা।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। বিএনপি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সতর্ক থাকার জন্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মুহুরী-কহুয়া প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার প্রায় চার থেকে সাড়ে চার লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকের সেচসুবিধা তৈরি হবে এবং ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রকল্পটির আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাশয় পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল চৌধুরী মিন্টু, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনুসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
