ছবি: সংগৃহীত
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশন বা নতুন বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী ৫ অক্টোবর। এ কার্যক্রম চলবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ পোর্টালে প্রবেশ করে চাকরিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে সরকারি চাকরিজীবীদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পে-ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন এবং বকেয়া অর্থ পরিশোধের হিসাব চূড়ান্ত করা হবে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বাড়তি বেতন পাওয়ার আগে সঠিকভাবে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কোনো চাকরিজীবীর তথ্য ভুল, অসম্পূর্ণ বা আগের রেকর্ডের সঙ্গে অসংগত হলে পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। বিভাগওয়ারি ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য শিগগিরই আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করবে অর্থ বিভাগ।
অর্থ বিভাগের ১৯ সেপ্টেম্বর জারি করা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর আলোকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে পে-ফিক্সেশন। পুরো প্রক্রিয়াটি ‘আইবাস প্লাস প্লাস’-এর পে-ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
পে-ফিক্সেশনের সময় সরকারি চাকরিজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বর্তমান মূল বেতন, আগের পে-ফিক্সেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পদোন্নতি, বদলি, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্য যাচাই করতে হবে। এসব তথ্যের পক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথিও প্রস্তুত রাখতে হবে।
তথ্য দেওয়ার আগে নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ পে-ফিক্সেশনের ভিত্তিতেই নতুন স্কেলে একজন সরকারি কর্মচারীর মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে। পরে সেই হিসাবের ভিত্তিতে বেতন বিল ও বকেয়া পাওনার হিসাব তৈরি হবে।
যেভাবে হবে পে-ফিক্সেশন
পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়ার শুরুতে সরকারি চাকরিজীবীকে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’-এর পে-ফিক্সেশন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। পরিচয় যাচাইয়ের পর চাকরিসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। এরপর আগের বেতন ও চাকরির ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন বেতন কাঠামোয় প্রযোজ্য গ্রেড ও ধাপ নির্ধারণ করা হবে।
কোনো চাকরিজীবীর পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, টাইমস্কেল বা সিলেকশন গ্রেড থাকলে সেসব তথ্যও দিতে হবে। সব তথ্য দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই করবে। তথ্য বা নথিপত্রে অসংগতি থাকলে তা সংশোধন করতে হতে পারে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পে-ফিক্সেশন চূড়ান্ত করবেন।
তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে দেওয়ার প্রস্তুতি
নতুন পে-স্কেল কার্যকরের পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বাড়তি বেতন ও বকেয়া অর্থ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, পে-ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর হিসাব অনুযায়ী প্রায় তিন মাসের বকেয়া অর্থ একসঙ্গে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
তবে বকেয়ার পরিমাণ সবার জন্য সমান হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, মূল বেতন, নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং কার্যকর তারিখের ভিত্তিতে বকেয়া অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
কোনো চাকরিজীবীর অনলাইনে তথ্য দিতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
হিসাব কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ
পে-ফিক্সেশন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অর্থ বিভাগের এসপিএফএমএস কর্মসূচির আওতায় আইবাস প্লাস প্লাস স্কিমের উদ্যোগে বিশেষ অনলাইন প্রশিক্ষণ চলছে।
হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের আওতাধীন প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (সিএএফও), বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ), জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (ডিএএফও) এবং উপজেলা হিসাব কর্মকর্তা (ইউএও) কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুম প্ল্যাটফর্মে এ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে কর্মচারীর তথ্য ও সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ সঠিক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের যাচাইয়ের মাধ্যমে পে-ফিক্সেশন দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, অক্টোবর থেকে নতুন স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন পাবেন। এ কারণে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে।
