বাংলাদেশীদের নাগরিকত্ব দেবে আর্জেন্টিনা
বিদেশি বিনিয়োগ টানতে মিলেই সরকারের ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:২৮
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা। দেশটিতে কমপক্ষে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগকারী বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর সরকার। ‘সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ নামে এই কর্মসূচি চলতি বছরের শেষ দিকে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচীর আওতায় বাংলাদেশিরাও সেদেশে নাগরিকত্ব লাভের সুযোগ পাবেন।
গেলো শুক্রবার (২ অক্টোবর) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘আর্জেন্টিনা উইক’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কর্মসূচিটির ঘোষণা দেওয়া হয়।
সরকারের ঘোষিত কর্মসূচিতে আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দুটি পথ রাখা হয়েছে। প্রথম পদ্ধতিতে আবেদনকারীকে দেশটির জাতীয় কোষাগারে সরাসরি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিতে হবে। এই অর্থ ফেরতযোগ্য নয়।
দ্বিতীয় পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীকে কর্মসূচির জন্য বিশেষভাবে তৈরি ৮ লাখ ডলারের একটি বিশেষ বন্ডে বিনিয়োগ করতে হবে।
বিনিয়োগকারীর সঙ্গে তাঁর স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদেরও এই কর্মসূচির আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রাপ্তবয়স্ক পরিবারের সদস্যদের জন্য জাতীয় কোষাগারে ১ লাখ ডলার এবং ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের জন্য ২৫ হাজার ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
আর্জেন্টিনার অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কর্মসূচির আওতায় আসা সব বিনিয়োগ কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে। বিনিয়োগের অর্থের উৎস, লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং আবেদনকারীর পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি অর্থপাচার প্রতিরোধ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে মিলেই সরকারের এই উদ্যোগের পাশাপাশি দেশটিতে বিদেশিদের সম্পদ অধিগ্রহণের সুযোগ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
এর আগে আর্জেন্টিনার সুপ্রিম কোর্ট বিদেশিদের কৃষিজমি কেনার ওপর থাকা সীমাবদ্ধতা বাতিল করে। গত মঙ্গলবার আদালত মিলেই সরকারের ২০২৩ সালের একটি ডিক্রি বহাল রাখেন। ওই ডিক্রির মাধ্যমে ২০১১ সাল থেকে বিদেশিদের কৃষিজমির মালিকানার ওপর থাকা ১৫ শতাংশ সীমা বাতিল করা হয়েছিল।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন ১৯৮২ সালে ব্রিটেনের সঙ্গে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বা লাস মালভিনাস নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়া সাবেক আর্জেন্টাইন সেনাসদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, মিলেই সরকার দেশের সম্পদ বিদেশিদের কাছে উন্মুক্ত করে দিয়ে ‘আর্জেন্টিনা প্রজাতন্ত্রকে বিক্রির জন্য তুলে দিচ্ছে’।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী সপ্তাহে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন সাবেক সেনাসদস্যদের একটি অংশ। বিরোধী দলও পার্লামেন্টে আইন পরিবর্তন ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার পিছিয়ে থাকার বিষয়টিও সরকারের নতুন কর্মসূচির অন্যতম প্রেক্ষাপট।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আর্জেন্টিনায় ৩ দশমিক ১৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে। একই সময়ে আর্জেন্টিনার তুলনায় অনেক বেশি বিনিয়োগ পেয়েছে প্রতিবেশী ব্রাজিল ও মেক্সিকো।
ওই বছর ব্রাজিল পেয়েছে ৭৬ দশমিক ৮৭৭ বিলিয়ন ডলার এবং মেক্সিকো পেয়েছে ৪০ দশমিক ৮৭১ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ।
ফলে বিদেশি মূলধন আকর্ষণ, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ানো এবং অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ আনতে মিলেই সরকার নাগরিকত্বের বিনিময়ে বিনিয়োগের এই কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশিদের কৃষিজমি কেনার সুযোগ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত দেশটির অর্থনৈতিক নীতি ও জাতীয় সম্পদের মালিকানা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফলে বিনিয়োগ বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগটি অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
