https://www.emjanews.com/

19301

national

প্রকাশিত

০৩ অক্টোবর ২০২৬ ২৩:৩৪

জাতীয়

সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহণ, চালকের চাবি জব্দ

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ২৩:৩৪

ছবি: সংগৃহীত

রোগী বহনের জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। অথচ সেই অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর বদলে তোলা হলো এক পাল ছাগল। খুলনা থেকে মোংলায় ফেরার পথে মোংলা পোর্ট পৌরসভার একটি অ্যাম্বুলেন্সে ছয়টি ছাগল পরিবহনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এরই মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক মো. শরীফুলের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রেখেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে মোংলা পোর্ট পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সটি খুলনায় রোগী নামিয়ে মোংলার দিকে ফিরছিল। পথে খুলনার জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে ছাগল ব্যবসায়ী মো. রশিদের ছয়টি ছাগল অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় পথচারীদের একজন ছাগল তোলার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোগী পরিবহনের জন্য নির্ধারিত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে এভাবে পশু পরিবহন করা দায়িত্বের গুরুতর ব্যত্যয়। অভিযোগ রয়েছে, চালক শরীফুল অতিরিক্ত আয়ের জন্য রোগী নামিয়ে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্সের পেছনের অংশে ছাগল ও বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করতেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চালক মো. শরীফুল। তার দাবি, অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহনের ঘটনা এটাই প্রথম। তিনি বলেন, চুকনগর এলাকা থেকে ছাগলগুলো মোংলায় নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন না পেয়ে ছাগল ব্যবসায়ী রশিদ তার কাছে অনুরোধ করেন। মানবিক কারণে তিনি ছাগলগুলো অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নেন। এর বিনিময়ে কোনো টাকা নেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

একই দাবি করেছেন ছাগল ব্যবসায়ী মো. রশিদ। তিনি জানান, চুকনগর হাট থেকে ছাগলগুলো কেনার পর জিরো পয়েন্ট এলাকায় এসে কোনো পরিবহন পাচ্ছিলেন না। পরে অ্যাম্বুলেন্স দেখে সংকেত দেন এবং চালককে অনুরোধ করে ছাগলগুলো মোংলায় নিয়ে যান।

এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পৌরসভা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) চালক শরীফুলের কাছ থেকে অ্যাম্বুলেন্সের অফিসিয়াল চাবি নিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে মোংলা পোর্ট পৌরসভার প্রশাসক শারমিন আক্তার সুমীর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সরকারি অর্থে পরিচালিত রোগী পরিবহনের অ্যাম্বুলেন্স কীভাবে পশু পরিবহনে ব্যবহৃত হলো, এটি চালকের ব্যক্তিগত উদ্যোগ নাকি এর সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। পাশাপাশি চালকের বিরুদ্ধে অতীতে এমন অভিযোগের সত্যতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।