শিরোনাম
চেলা নদীর পাড় কেটে ৫ কোটি টাকার বালু লুট, ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সিলেটের সুরমায় নতুন সেতু: নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: আনোয়ারুজ্জামানের সাবেক এপিএসের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা সিলেট সীমান্তে ধরা পড়লো দেড় কোটি টাকার পণ্য সিলেটে পৌঁছেছে সৌদিতে নিহ/ত দুই প্রবাসীর মরদেহ সিলেটে আরো দুই শিশুর প্রাণহানী বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের চুক্তি সিলেটে একই স্থানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাড়ানোর সুপারিশ সিলেটে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নজরদারি, নাশকতা ঠেকাতে সতর্ক পুলিশ

https://www.emjanews.com/

19425

surplus

প্রকাশিত

০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:১৬

অন্যান্য

মিলনের পর সঙ্গীকেই খাবার বানায় যে স্ত্রী!

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:১৬

ছবি: সংগৃহীত

আজ ৮ অক্টোবর, বিশ্ব অক্টোপাস দিবস। সমুদ্রের রহস্যময় প্রাণীদের মধ্যে অক্টোপাস বরাবরই মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্র। আটটি বাহু, অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা আর বিচিত্র জীবনযাপনের কারণে প্রাণীজগতের এই সদস্যকে ঘিরে রয়েছে নানা বিস্ময়কর তথ্য। তবে নীল বলয়যুক্ত অক্টোপাসের প্রজনন কাহিনি যেন রোমাঞ্চ আর আতঙ্কের এক অদ্ভুত মিশেল। এখানে ভালোবাসার পরিণতি হতে পারে সঙ্গীর পেটে যাওয়া!

মিলনের পর স্ত্রী অক্টোপাস প্রায়ই নিজের পুরুষ সঙ্গীকেই শিকার করে খেয়ে ফেলে। আর সেই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে পুরুষ অক্টোপাস বেছে নিয়েছে অবিশ্বাস্য এক কৌশল; মিলনের সময় স্ত্রীকে বিষাক্ত কামড় দিয়ে সাময়িকভাবে অচেতন করে পালিয়ে যাওয়া। সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই চমকে দেওয়া তথ্য।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের গবেষক ফ্যাবিও কোর্তেসি মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআরের আইশা রাসকোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে গবেষণার এসব বিস্ময়কর তথ্য জানান।

গবেষক ফ্যাবিও কোর্তেসি জানান, প্রজনন মৌসুমে ডিম পাড়ার প্রায় ৪০ দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে স্ত্রী অক্টোপাস। ডিম পাড়ার পর কয়েক মাস ধরে সেগুলোর যত্ন নেয় সে। এ সময় কোনো খাবার গ্রহণ করে না। ফলে ডিম পাড়ার আগে থেকেই নিজের শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয়ের জন্য প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত হয়ে ওঠে স্ত্রী অক্টোপাস।

সেই ক্ষুধার অন্যতম সহজ শিকার হয়ে ওঠে তার নিজের মিলনসঙ্গী। আকারে পুরুষ অক্টোপাস স্ত্রীটির তুলনায় অনেক ছোট হওয়ায় তাকে শিকার করা খুব কঠিন নয়। অর্থাৎ প্রজননের পর পুরুষটির সামনে তখন একদিকে বংশবিস্তারের সাফল্য, অন্যদিকে সঙ্গীর পেটে যাওয়ার আশঙ্কা।

তবে ব্লু-লাইন্ড অক্টোপাসের কিছু পুরুষ এই পরিণতি এড়ানোর অভিনব কৌশল রপ্ত করেছে। গবেষণাগারে পর্যবেক্ষণের সময় গবেষকরা দেখতে পান, মিলনের সময় পুরুষ অক্টোপাস স্ত্রীটির পিঠে উঠে যায়। এরপর মাত্র ৮ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে স্ত্রীটির শরীরের রং ফ্যাকাশে হয়ে আসে এবং তার নড়াচড়া প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

প্রায় এক ঘণ্টা এই অসাড় অবস্থায় থাকার পর চেতনা ফিরে পেলে স্ত্রী অক্টোপাসটি প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে পুরুষ সঙ্গীকে শরীর থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। আর সেই সুযোগেই পুরুষ অক্টোপাসটি দ্রুত সরে গিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পারে।

এর রহস্য লুকিয়ে আছে বিষে। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, ব্লু-লাইন্ড অক্টোপাসের শরীরে রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী স্নায়ুবিষ ‘টেট্রোডোটক্সিন’ বা টিটিএক্স। পুরুষ অক্টোপাসের বিষগ্রন্থি স্ত্রী অক্টোপাসের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বড়। গবেষকদের ধারণা, মিলনের সময় নিজেকে রক্ষা করতেই এই অতিরিক্ত বিষের ব্যবহার করে পুরুষটি।

মিলনের সময় পুরুষ অক্টোপাস স্ত্রীটির শরীরে কামড় দিয়ে বিষ প্রয়োগ করে। বিষের প্রভাবে স্ত্রীটি সাময়িকভাবে অসাড় হয়ে পড়ে। ফলে স্ত্রীটি যখন শিকার করার মতো অবস্থায় ফিরে আসে, ততক্ষণে পুরুষটি নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়।

গবেষকদের মতে, প্রাণিজগতে প্রজননের সময় টিটিএক্স বিষ ব্যবহার করে সঙ্গীকে অসাড় করার ঘটনা এটাই প্রথম শনাক্ত হওয়া উদাহরণ। অন্য প্রজাতির পুরুষ অক্টোপাস স্ত্রীকে দূরে রাখতে লম্বা বাহু কিংবা প্রজনন অঙ্গ ব্যবহার করলেও ব্লু-লাইন্ড অক্টোপাসের পুরুষ বেছে নেয় বিষাক্ত কামড়ের পথ।

এই কৌশল তারা অন্যদের দেখে শেখে না। কারণ মিলনের নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পর অক্টোপাসগুলো স্বাভাবিকভাবেই মারা যায়। ফলে পূর্বসূরিদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ নেই। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভুল থেকেই পুরুষ অক্টোপাস ধীরে ধীরে এই কৌশল নিখুঁত করে।

প্রথমবার বিষ প্রয়োগের সময় কামড়টি সঠিক জায়গায় না পড়লে স্ত্রী অক্টোপাস দ্রুত জেগে উঠতে পারে। তখন আক্রমণাত্মক স্ত্রীটির হাতে পুরুষ অক্টোপাস তার এক বা একাধিক বাহু হারাতে পারে। তবে প্রাণে বেঁচে ফিরতে পারলে পরবর্তী মিলনে আগের ভুল শুধরে আরও নিখুঁতভাবে কামড় দিতে পারে পুরুষটি।

এই গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে মানবকল্যাণে। টিটিএক্স এমন একটি শক্তিশালী স্নায়ুবিষ, যা স্নায়ুকোষের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে পারে। অথচ স্ত্রী অক্টোপাস প্রায় এক ঘণ্টা অসাড় থাকার পরও বেঁচে থাকে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। গবেষণায় কোনো অক্টোপাসের মৃত্যু হয়নি।

কীভাবে অক্টোপাসের শরীর এই ভয়ংকর বিষ সামলে এত দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, তা জানতে এখনো গবেষণা চলছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা গেলে ভবিষ্যতে মানুষের তীব্র ব্যথা কমানোর ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে।