সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ: ১২ দিনে গড়ালো আন্দোলন, দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:০৬
ছবি: সংগৃহীত
দেড় বছর ধরে শুধু আশ্বাস মিলেছে, আসেনি লিখিত কোনো সিদ্ধান্ত। এবার দাবি বাস্তবায়নে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সঙ্গে একাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে যুক্ত করার এক দফা দাবিতে টানা ১২তম দিনেও আন্দোলন করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত নগরীর চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শত শত শিক্ষার্থী বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অবস্থান নেন। তাদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে অবিলম্বে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাশাপাশি শাবিপ্রবির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক ও প্রশাসনিক সংযুক্তির বিষয়ে আর কোনো মৌখিক আশ্বাস নয়, সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে লিখিত সিদ্ধান্ত দিতে হবে।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। আন্দোলনের একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনে অধ্যক্ষসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করা হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও নির্ধারিত বৈঠক শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি।
তাদের অভিযোগ, গত বছর এ বিষয়ে একটি রেজুলেশন পাস হওয়ার কথা থাকলেও দেড় বছরেও তা কার্যকর হয়নি। বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও দৌড়ঝাঁপ করেও স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায় থেকে তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন না আসায় সেই আশ্বাসের ওপর আর আস্থা রাখছেন না তারা।
তাদের বক্তব্য, ‘মৌখিক আশ্বাসে আর আন্দোলন বন্ধ হবে না। দাবি বাস্তবায়নে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।’
অবস্থান কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, দ্রুত দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আন্দোলনের কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে।
