শিরোনাম
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী যাবেন বিনা খরচে হবিগঞ্জ কারাগারে মাদক মামলার আসামির মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেলো মোটরসাইকেল আরোহীর দেড় মাস সিলেট নগরীর যে স্থানে চলাচলে মানতে হবে বিশেষ নির্দেশনা নতুন করে যাচাই হবে জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা, বাদ পড়াদের আবেদনের সুযোগ জানা গেল সরকারি চাকুরিতে শূন্য পদের সংখ্যা সাবেক এমপি সুলতান মনসুর ফের গ্রেপ্তার সিলেটে ৮৫ পূজামণ্ডপে সিসিকের সর্বাত্মক প্রস্তুতি চাকরির আশায় রাশিয়ায়, যুদ্ধে প্রাণ গেল ২০ বাংলাদেশির: এসআরবি পানি-মোটরসাইকেল যেনো কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে শাবির সম্ভাবনাময় তরুণদের: ১০ মাসে ঝরল ৭ প্রাণ

https://www.emjanews.com/

19649

surplus

প্রকাশিত

১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৪৩

অন্যান্য

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী যাবেন বিনা খরচে

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৪৩

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। পাশাপাশি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর সুযোগ থাকবে। কোনো নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। কর্মীদের জন্য সহজ, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

চার ধাপে সম্পন্ন হবে নিয়োগপ্রক্রিয়া

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চারটি ধাপে সম্পন্ন হবে।

প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেদের উদ্যোগে দেশটির নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে চাকরির চাহিদাপত্র বা জব অর্ডার সংগ্রহ করতে পারবে।

দ্বিতীয় ধাপে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে কর্মী নির্বাচন এবং নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অর্থাৎ, যে এজেন্সি জব অর্ডার সংগ্রহ করবে, সেই এজেন্সিই নিজস্ব কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগের দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

তৃতীয় ধাপে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য নির্ধারিত কার্যক্রমে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং সার্ভিস এজেন্সি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

চতুর্থ ধাপে মালয়েশিয়ার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রের কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। অনুমোদিত প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনেই নিজেদের নির্বাচিত কর্মীদের ছাড়পত্র নিতে পারবে।

এ ক্ষেত্রে বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং সার্ভিস এজেন্সি প্রশাসনিক কার্যক্রমে সহায়তা করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় ৩৩৮ এজেন্সি

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট ৩৩৮টি এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে একটি সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেল, ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি।

তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেদের উদ্যোগে মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা খুঁজতে, জব অর্ডার সংগ্রহ করতে এবং বাংলাদেশে কর্মী নির্বাচন করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

মন্ত্রণালয়ের মতে, এ ব্যবস্থার ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের আরও বেশি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।

১০ হাজার কর্মী নেওয়া হবে বিনা খরচে

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে বা ‘জিরো কস্টে’ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগকে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। এর মাধ্যমে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আরও উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বিনা খরচে কর্মী নিয়োগের বাস্তবায়নপদ্ধতি, আবেদন শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এবং কর্মী নির্বাচনের বিস্তারিত শর্ত সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তথ্যের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই আগ্রহী কর্মীদের মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।