ছবি: সংগৃহীত
একসময় যে নগরী পরিচিত ছিল শান্ত পরিবেশ, সামাজিক বন্ধন আর স্বস্তির জনপদ হিসেবে, সেই খুলনাতেই এখন সন্ধ্যা নামলে বাড়ে আতঙ্ক। পথে বেরিয়ে নিরাপদে ঘরে ফেরা, দোকান খুলে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করা কিংবা রাতের উপার্জন নিয়ে নিশ্চিন্তে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা যেন ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে। খুন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার আর সন্ত্রাসী তৎপরতার একের পর এক ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে নগরজুড়ে।
গত নয় মাসে খুলনা মহানগরী ও জেলায় ৬৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও গভীর করেছে। এর মধ্যে মহানগরীতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই জাগছে শঙ্কা-কতটা নিরাপদ খুলনার রাজপথ?
একসময় প্রাকৃতিক সম্পদ, কর্মচাঞ্চল্য ও মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত ছিল খুলনা। এরশাদ শিকদারের অপরাধজগতের উত্থানের সময় নগরীতে অস্থিরতা দেখা দিলেও ১৯৯৯ সালে তাঁর গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘদিন তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ বিরাজ করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আবারও অপরাধের নানা ঘটনায় আলোচনায় এসেছে নগরী ও আশপাশের এলাকা। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম, সরকারি কর্মকর্তাকে জোর করে তুলে নেওয়া, মাদক কারবার এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নাগরিক জীবনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাড়া-মহল্লাভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা ও নীরব চাঁদাবাজির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও রাতের শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) খুলনা জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদার ভাষায়, শান্তির শহর খুলনায় মানুষ এখন শান্তিতে নেই। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কারণে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ভয় ও শঙ্কা কাজ করছে। শিক্ষক, চিকিৎসক, পুলিশ সদস্য ও সরকারি কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অস্থিরতার মধ্যে রয়েছেন।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের আরও কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাও জরুরি।
সরকারি কর্মকর্তাকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ
নগরীতে অপরাধের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে খুলনা সদর সাবরেজিস্ট্রার তন্ময় কুমারকে তাঁর কার্যালয় থেকে জোর করে তুলে নেওয়ার ঘটনা। বুধবার দুপুরে তিন যুবক তাঁকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে লোহাপট্টির কসাই লিটনের নাম এসেছে। তিনি ‘গ্রেনেড বাবু’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির দলের প্রভাবশালী সদস্য এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি সাবরেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার। রোববার এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই বলতে চাই না। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগও করেননি।
একজন সরকারি কর্মকর্তাকে তাঁর কর্মস্থল থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনা নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাতের উপার্জনও কেড়ে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা
অপরাধের আতঙ্ক কেবল বড় ব্যবসায়ী কিংবা সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবিকার তাগিদে রাতের রাস্তায় বের হওয়া নিম্ন আয়ের মানুষেরাও রয়েছেন ঝুঁকির মধ্যে।
নগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজারের রিকশাচালক ইসমাইল হোসেন জানান, কয়েক দিন আগে রাত ১টার দিকে নিরালা মোড়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন তিনি। দুর্বৃত্তরা তাঁর সারা রাতের উপার্জন ছিনিয়ে নেয়।
৩৬ বছর ধরে রিকশা চালানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইসমাইল বলেন, আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি তিনি।
দিনভর পরিশ্রমের পর রাতের উপার্জনটুকু নিয়ে ঘরে ফেরার স্বপ্নই যাঁদের সম্বল, তাঁদের কাছে এমন ছিনতাই শুধু অর্থ হারানোর ঘটনা নয়; এটি পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের ওপরও আঘাত। নগরীর রাস্তায় নিরাপত্তার ঘাটতি তাঁদের জীবিকাকেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা, রাতে একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায়। সম্প্রতি ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে রূপসা থানার পুলিশ সদস্য শাহ আলম ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন। দুর্বৃত্তরা তাঁকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা ও দুটি মুঠোফোনও নিয়ে যায়। পরে তাঁকে ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার পর খুলনার পুলিশ সুপার পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেন।
অন্যদিকে, শনিবার দুপুরে নগরীর সদর থানার কাশেমনগর এলাকায় আশিকুজ্জামান জনি নামে এক যুবককে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এসব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন জানান, দু-এক দিনের মধ্যে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তথ্য দিতে পারবেন।
পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা থেকে শুরু করে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা-সব মিলিয়ে নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও যখন হামলার ঝুঁকিতে পড়ছেন, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নয় মাসে ৬৬ খুন, অভিযোগের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে
খুলনা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত নয় মাসে মহানগরী ও জেলায় মোট ৬৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে খুলনা মহানগরীতে হত্যার ঘটনা ৩৩টি। একই সময়ে হুমকি, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা নিয়ে নগরীর থানাগুলোতে অভিযোগের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী দেড় বছরে ৯১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধও নগরবাসীর নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে। অপরাধের ধারাবাহিকতা মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ মনে করেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারকে দূরদর্শী ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অপরাধীরা কোনোভাবেই ছাড় না পায়। পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা ও অপরাধবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলাও জরুরি।
চাঁদাবাজির চাপে ব্যবসা, বাড়ছে উদ্বেগ
খুন ও ছিনতাইয়ের পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগও ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নগরীর খানজাহান আলী রোডের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুল হাকিম জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর একটি নম্বর থেকে ফোন করে তাঁর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ‘গ্রেনেড বাবু’র লোক পরিচয় দিয়ে টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ রাখার হুমকি দেন বলে তাঁর অভিযোগ। তবে এ ঘটনায় তিনি থানায় যাননি।
ব্যবসায়ী নেতা সোহাগ দেওয়ানের অভিযোগ, চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন পক্ষকে চাঁদা না দিলে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ আগস্ট রাতে আশিক গ্রুপের সদস্য আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে গ্রেনেড বাবু গ্রুপের সদস্যদের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছিল।
এ ঘটনায় জয় ঢালীর মা নাসিমা বেগম মামলা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলা প্রত্যাহারের জন্য গ্রেনেড বাবু চাপ দেন। মামলা প্রত্যাহার না করায় ছেলের হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৫০ দিন পর জয় ঢালীর বাবা আক্তার ঢালীও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের সত্যতা ও প্রতিটি ঘটনার দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সাক্ষী ও অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
রূপসা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হোসেন বলেন, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করেও হত্যাকাণ্ড ঘটছে। তাঁর ভাষ্য, রূপসা উপজেলা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষ চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। পুলিশের কার্যক্রম নিয়েও মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
পাড়া-মহল্লায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতার অভিযোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুলনা শহর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতার কথা উঠে এসেছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর নেতৃত্বাধীন গ্রুপ, পলাশ গ্রুপ, হুমা বাহিনী, আশিক বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ, টেংকি শাওন গ্রুপ, আরমান গ্রুপ, শাকিল গ্রুপ ও নাসিম গ্রুপের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা বিভাগের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেনেড বাবু গ্রুপের সদস্যরা ‘বি কোম্পানি’ নামে একটি বাহিনী গড়ে তুলেছে। পাড়া-মহল্লার উঠতি বয়সী তরুণদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে। এসব তরুণকে মাদক সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, নিম্ন আয়ের পরিবার ও বস্তি এলাকার কিশোর-যুবকদের অপরাধে যুক্ত করার প্রবণতা রয়েছে। দেনা-পাওনা কিংবা মাদকের অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধ থেকে হুমকি-ধমকি, সংঘর্ষ এমনকি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটছে বলে পুলিশের হাতে তথ্য রয়েছে।
তবে অপরাধ দমনে শুধু গ্রেপ্তার অভিযান যথেষ্ট নয়। কিশোর-তরুণদের অপরাধী চক্রে জড়িয়ে পড়ার পেছনের কারণ চিহ্নিত করা, মাদক সরবরাহ বন্ধ করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।
অপরাধপ্রবণ চার উপজেলা, বাড়তি নজরদারির প্রয়োজন
খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক রূপসা, বটিয়াঘাটা, দিঘলিয়া ও তেরখাদা উপজেলাকে অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত নয় মাসে রূপসায় ১১টি, তেরখাদায় দুটি, দিঘলিয়ায় চারটি এবং বটিয়াঘাটায় তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
অন্যদিকে, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) এম শাকিলুজ্জামান বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকে সন্ত্রাসী তৎপরতা বেড়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির অবনতির গতি কমছে বলে তাঁদের মূল্যায়ন। তাঁর দাবি, ৯০ শতাংশ হত্যা মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তিতে অগ্রগতি হয়েছে এবং বাকি মামলাগুলোও সমাধানের পথে। নিয়মিত আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তাঁর ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে মানুষ সন্ত্রাসীদের অবস্থান বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দিতে চান না। পাশাপাশি অপরাধীরা প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৬-এর কমান্ডার নিস্তার আহমদ বলেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে এবং সীমান্ত এলাকা দিয়ে এসব অস্ত্র আসছে। অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্ক ভাঙতে কাজ চলছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বেশির ভাগ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কয়েকজন দেশের বাইরে থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে শহরকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
