শিরোনাম
দুর্ঘটনা থামছে না সিলেটে, ৯ মাসে প্রাণ গেলো ২৮৮ জনের যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন, দুজনের কারাদণ্ড জাতীয় পতাকা প্রদর্শনে নতুন নির্দেশনা বিয়ানীবাজারে ৭৩ বছর ধরে এক উঠানে চলছে নামাজ ও পূজা!  সিলেটে আ.লীগ নেতা কামাল ফের আ/ট/ক: এবারও ভারতে যাওয়ার চেষ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারামারির ভিডিও নিয়ে স্টেশনক্লাবের জিডি সিলেটে সিএনজি চালক হ/ত্যা: বাবা ও চার ছেলে গ্রেফ/তার দরপত্র ছাড়াই যাদুকাটার দুই বালুমহাল বিএনপি নেতাকে বুঝিয়ে দিল প্রশাসন কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে সাগরে প্রাণ হারালেন তিন পর্যটক, নিখোঁজ ২ সিলেটে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়

https://www.emjanews.com/

19862

national

প্রকাশিত

২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:২১

জাতীয়

জমির নামজারিতে পরিবর্তন, উত্তরাধিকারেও নতুন নিয়ম

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:২১

ছবি: সংগৃহীত

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করতে হবে। তবে ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে প্রয়োজন হবে নিবন্ধিত বণ্টননামা। জমির মালিকানা-সংক্রান্ত রেকর্ড হালনাগাদ ও ভবিষ্যতের জটিলতা এড়াতে এসব নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর সরকারি ভূমি রেকর্ডে মালিকানার তথ্য হালনাগাদ করার প্রক্রিয়াকে নামজারি বলা হয়। ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, জমি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে হালনাগাদ ভূমি রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যৌথ নামজারিতে লাগবে না বণ্টননামা

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির আবেদন করার সময় মৃত ব্যক্তির সব আইনগত ওয়ারিশের নাম উল্লেখ করতে হবে। তাঁদের আইনগত প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী খতিয়ানে সহ-অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ওয়ারিশদের মধ্যে জমি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাগ করা না হলে নিবন্ধিত বণ্টননামা ছাড়াই যৌথ নামজারির আবেদন করা যায়। শুধু নিবন্ধিত বণ্টননামা না থাকার কারণে এ ধরনের আবেদন বাতিল করা যাবে না।

তবে ওয়ারিশরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে প্রত্যেকের নামে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা প্রয়োজন হবে। বণ্টননামা নিবন্ধনের পর নির্ধারিত নিয়মে পৃথক নামজারির আবেদন করা যাবে।

নামজারির আবেদনে প্রয়োজন ওয়ারিশ সনদ

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ গুরুত্বপূর্ণ নথি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র কিংবা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে এ সনদ সংগ্রহ করা যায়।

সনদে সব ওয়ারিশের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। তথ্যের অসংগতি বা ভুল থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

নামজারির জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে

জমির মালিকানা অর্জনের ধরন ও সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত যেসব নথি প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো হলো—

১. জমি কেনা হলে নিবন্ধিত দলিলের কপি।
২. সংশ্লিষ্ট জমির আগের খতিয়ানের কপি।
৩. জমির দাগ নম্বর, পরিমাণ ও অবস্থানের বিবরণ।
৪. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র।
৫. উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ।
৬. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুসনদ।
৭. পৃথক খতিয়ানের জন্য নিবন্ধিত বণ্টননামা।
৮. নির্ধারিত ফি পরিশোধের তথ্যসহ কর্তৃপক্ষের চাওয়া অন্যান্য নথি।

আবেদনের আগে দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং মালিকানার তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত। নথিপত্রে অসংগতি থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হতে পারে।

অনলাইনে যেভাবে করবেন নামজারি

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট land.gov.bd থেকে ই-নামজারি সেবায় প্রবেশ করে আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে সাধারণত কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়।

প্রথমে সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করে ই-নামজারি সেবা নির্বাচন করতে হবে। এরপর আবেদনকারীর পরিচয়, জমির অবস্থান, খতিয়ান ও দাগ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।

জমি কেনার মাধ্যমে নাকি উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা অর্জিত হয়েছে, তা উল্লেখ করে প্রযোজ্য কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।

এরপর আবেদন জমা দিয়ে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হবে এবং আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে। অনলাইনে আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাইলে তা জমা দিতে হবে।

আবেদনের আগে সরকারি পোর্টালে প্রকাশিত সর্বশেষ নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি যাচাই করে নেওয়া জরুরি। নথিপত্রের যথার্থতা, জমির ধরন এবং কোনো আপত্তি রয়েছে কি না, তার ওপর আবেদন নিষ্পত্তির সময় নির্ভর করতে পারে।

নামজারি না করলে কী সমস্যা হতে পারে?

জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর ভূমি রেকর্ডে মালিকানার তথ্য হালনাগাদ না করলে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, জমি হস্তান্তর ও মালিকানার তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

জমি নিয়ে বিরোধ বা প্রতারণার আশঙ্কা দেখা দিলে সঠিক ও হালনাগাদ নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে নামজারি একাই জমির চূড়ান্ত মালিকানার প্রমাণ নয়। নিবন্ধিত দলিল, উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত কাগজপত্র, দখল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও মালিকানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

তাই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করা এবং জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এতে ভূমি রেকর্ড হালনাগাদ রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য জটিলতা কমাতে সহায়তা হবে।