ভিসা জালিয়াতি
রাসেল, আমিনুল, মুদাব্বির, নাফিজ ও রকিবুলসহ ৫ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কানাডায় মামলা
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৫
ছবি: সংগৃহীত
ভুয়া নথিপত্র ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে দুই শতাধিক বাংলাদেশিকে কানাডার ভিসা পেতে সহযোগিতার অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা করেছে কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)। অভিযোগ, কানাডীয় নাগরিকদের স্বজন বা হোস্ট হিসেবে দেখিয়ে ভুয়া স্পন্সরের মাধ্যমে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য ২৪৩টি অস্থায়ী আবাসন ভিসার (টিআরভি) আবেদন করা হয়েছিল। এ ঘটনায় চার আসামি কানাডার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। অপর এক আসামি বাংলাদেশে রয়েছেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
সিবিএসএর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযুক্ত পাঁচ বাংলাদেশি হলেন-রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মুদাব্বির আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম ও রকিবুল হাসান।
বৃহস্পতিবার কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজিরা দেন রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মুদাব্বির আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম। মামলার অপর আসামি রকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। তাঁর বিরুদ্ধে কানাডার আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানিয়েছে সিবিএসএ।
সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ায় একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালায় সংস্থাটি। এ সময় স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তল্লাশিতে কানাডার অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তে উঠে আসে, একটি চক্র কানাডীয় নাগরিকদের স্বজন কিংবা হোস্ট হিসেবে উপস্থাপন করে বাংলাদেশিদের ভিসার আবেদন তৈরি করছিল। এসব আবেদনে ভুয়া নথিপত্র ও অসত্য তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।
পরবর্তী সময়ে, ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেন সিবিএসএর তদন্তকারীরা। এ সময় বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিপত্র জব্দ করা হয়।
মামলাটি জটিল ও বিস্তৃত হওয়ায় তদন্তকারীরা প্রমাণের ভিত্তিতে ৭৯টি ভিসা আবেদনকে কেন্দ্র করে তদন্ত এগিয়ে নেন।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কানাডার অভিবাসন আইনের তিনটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে কাউকে কানাডায় প্রবেশে সহায়তার ষড়যন্ত্র, ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য বা তথ্য গোপন করতে সহায়তা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ।
কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা সততা ও আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। যারা জালিয়াতির আশ্রয় নেবে, তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
