শিরোনাম
সিলেটে সাব-রেজিস্ট্রার পদে বড় রদবদল: নতুন ৪, বদলি ৩ সিলেটে মাহা-ইমজার ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে পুকুর নিয়ে বিরোধে চাচাতো ভাইদের হামলায় যুবক নিহ/ত, আট/ক এক শিল্পবর্জ্যে অস্তিত্বসংকটে সুতাং নদী, বিপন্ন ২৭ হাজার হেক্টর জমির কৃষি সিলেটসহ সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ কার্যক্রম স্থগিত কমনওয়েলথ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সিলেট নগরীতে রাস্তার পাশে মিলল আরেক মরদেহ বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সোমবার ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা সৌদি আরবের দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ বেড়েছে সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম শুরু হচ্ছে, বাড়ছে ভ্রমণসীমা

https://www.emjanews.com/

19965

surplus

প্রকাশিত

২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৬

অন্যান্য

মিডিয়ায় অবদানের স্বীকৃতি, ব্রিটিশ বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাওয়ার্ড পেলেন জুবায়ের ও মাসুম

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৬

ব্রিটেনে বাংলা সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের উন্নয়ন ও কমিউনিটির কল্যাণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মিডিয়া এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন সাংবাদিক মুহাম্মদ জুবায়ের ও আ স ম মাসুম। চতুর্থ ব্রিটিশ বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এর অনুষ্ঠানে তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

বার্মিংহামের নিউ বিংলে হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দুই সাংবাদিকের হাতে সম্মাননা তুলে দেন বার্মিংহাম মেইলের সম্পাদক গ্রায়াম ব্রাউন।

অনুষ্ঠানে ব্যবসা, গণমাধ্যম, পেশাগত উৎকর্ষ ও কমিউনিটি সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২১ জন ব্রিটিশ বাংলাদেশি ও অন্যান্য ব্রিটিশ ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্রিটেনের ১৫টি সফল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মিছবাউর রহমান বলেন, দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে মুহাম্মদ জুবায়ের ও আ স ম মাসুম ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির সংবাদ, সমস্যা, সম্ভাবনা ও অর্জন তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। গণমাধ্যমের পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রম, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব ও সামাজিক উন্নয়নেও তাঁদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এ কারণে প্রথমবারের মতো তাঁদের দুজনকে মিডিয়া এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।

মুহাম্মদ জুবায়ের: সাংবাদিকতা ও কমিউনিটি সেবায় দীর্ঘ পথচলা

ব্রিটিশ বাংলাদেশি গণমাধ্যমের পরিচিত মুখ মুহাম্মদ জুবায়ের প্রায় দুই দশক ধরে সাংবাদিকতা, টেলিভিশন সম্প্রচার, গণমাধ্যমের নেতৃত্ব ও কমিউনিটি উন্নয়নে কাজ করছেন।

১৯৯৬ সালে ঢাকার প্রেস ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁর পেশাগত প্রস্তুতি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনে বিবিসি একাডেমি, গার্ডিয়ান মাস্টারক্লাস এবং চ্যানেল ফোরের অধীনে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

২০০৬ সালে চ্যানেল এস-এ যোগ দিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর সাংবাদিকতা করেন জুবায়ের। এ সময়ে প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে ব্রিটেনের জাতীয় রাজনীতি, সামাজিক সংকট, অভিবাসন ও কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেন। জনপ্রিয় সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান ‘রিয়েলিটি উইথ মাহি’র প্রযোজক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সাংবাদিকতা জীবনে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন, ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন ও কিয়ার স্টারমারসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জুবায়ের। প্রিন্স অব ওয়েলস থাকাকালে রাজা তৃতীয় চার্লস এবং রানি ক্যামিলাসহ রাজপরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানও কাভার করেছেন তিনি।

করোনাকালে ব্রিটিশ কারি শিল্পের সংকট নিয়ে প্রতিবেদনের জন্য ২০২১ সালে ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসে বিশেষ স্বীকৃতি পান জুবায়ের। তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার ১০০’ তালিকায়। স্বেচ্ছাসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশিষ্ট ১০১ জন স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে প্রকাশিত একটি গ্রন্থেও স্থান পেয়েছে তাঁর নাম।

করোনা মহামারির সময় অসহায় মানুষ ও জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার কর্মীদের সহায়তায় ‘ফিড ৫০০০’ এবং ‘লাভ ফর এনএইচএস’ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন জুবায়ের। ২০০৩ সাল থেকে সংগঠনটির সভাপতি, দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রেস ক্লাবের নিজস্ব অফিস প্রতিষ্ঠা, সম্পত্তি ক্রয়, তহবিল সংগ্রহ এবং এলবিপিসি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস চালু করতেও অবদান রাখেন তিনি।

২০২২ সালে চ্যানেল এস ছাড়ার পর টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়রের দপ্তরে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী, গণমাধ্যম ও কমিউনিটিবিষয়ক কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন জুবায়ের। বর্তমানে স্থানীয় সরকার ও বহুজাতিক কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগ জোরদারে কাজ করছেন তিনি।

আ স ম মাসুম: সাংবাদিকতা থেকে আন্তর্জাতিক মানবিক কর্মকাণ্ড

বাংলাদেশের সংবাদপত্র থেকে ব্রিটেনের টেলিভিশন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতায় আড়াই দশকের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে আ স ম মাসুমের।

২০০০ সালে দৈনিক প্রথম আলোয় লেখালেখির মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয়। ২০০৩ সালে চ্যানেল এস বাংলাদেশে প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন তিনি। পরের বছর সিলেট ব্যুরোপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০০৬ সালে ব্রিটেনের চ্যানেল এস-এ যোগ দিয়ে জ্যেষ্ঠ প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাসুম। জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘চ্যানেল এস স্টার’-এর সহপ্রযোজক ছিলেন তিনি। বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেকে সংশ্লিষ্ট করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানও কাভার করেন।

২০১০ সাল থেকে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মাসুম। পরবর্তী সময়ে বাংলা টিভির অনুষ্ঠানপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৫ সাল থেকে ইকরা টিভি ও আল খায়ের ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ও সংকটাপন্ন মানুষের জীবনচিত্র তুলে ধরেন।

২০১২ সালে রানার টিভি প্রতিষ্ঠা করেন মাসুম। ২০১৯ সালে নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্রিটেনসহ বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য একটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলেন তিনি।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে টানা ১১ বছর বিভিন্ন নেতৃত্বস্থানীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন মাসুম। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে সংগঠনের আজীবন সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি, নিজস্ব সম্পত্তি অর্জন, অফিস প্রতিষ্ঠা ও গঠনতন্ত্র সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য ২০১৮ সালে ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার ১০০’ তালিকায় স্থান পান তিনি। একই বছর ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন থেকে আজীবন সম্মাননা পান। সাংবাদিকতার মাধ্যমে কমিউনিটিতে অবদানের জন্য ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপও তাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

২০২৫ সালে রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে সেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে সেরা মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদকের পুরস্কার পান মাসুম। ২০২৬ সালে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সেরা অনলাইন প্রতিবেদক নির্বাচিত হন তিনি।

পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে পরিবেশ সাংবাদিকতা, টেলিভিশন প্রযোজনা ও মোবাইল সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন মাসুম। ২০১৬ সাল থেকে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণও দিয়ে আসছেন তিনি।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এবং ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন মাসুম। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল, সিটি ব্রিজ ফাউন্ডেশন ও বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।

দুই সাংবাদিকের এ অর্জন ব্রিটিশ বাংলাদেশি গণমাধ্যমের বিকাশ, পেশাগত উৎকর্ষ এবং কমিউনিটির প্রতি দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।