শিরোনাম
সিলেটে সাব-রেজিস্ট্রার পদে বড় রদবদল: নতুন ৪, বদলি ৩ সিলেটে মাহা-ইমজার ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে পুকুর নিয়ে বিরোধে চাচাতো ভাইদের হামলায় যুবক নিহ/ত, আট/ক এক শিল্পবর্জ্যে অস্তিত্বসংকটে সুতাং নদী, বিপন্ন ২৭ হাজার হেক্টর জমির কৃষি সিলেটসহ সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ কার্যক্রম স্থগিত কমনওয়েলথ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সিলেট নগরীতে রাস্তার পাশে মিলল আরেক মরদেহ বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, সোমবার ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা সৌদি আরবের দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ বেড়েছে সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম শুরু হচ্ছে, বাড়ছে ভ্রমণসীমা

https://www.emjanews.com/

19971

sylhet

প্রকাশিত

২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:১৫

সিলেট

শিল্পবর্জ্যে অস্তিত্বসংকটে সুতাং নদী, বিপন্ন ২৭ হাজার হেক্টর জমির কৃষি

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:১৫

ছবি: সংগৃহীত

একসময় এই নদীর পানিতে চলত সেচ, জালে ধরা পড়ত মাছ, আর বন্যার পানি বাড়াত কৃষিজমির উর্বরতা। সেই সুতাং নদী এখন শিল্পবর্জ্যে কালো, দুর্গন্ধে ভারী চারপাশ। নদীর পানি জমিতে দিলে মরে যাচ্ছে ধানের চারা, মাছ হারিয়ে যাচ্ছে জলাশয় থেকে, দূষিত পানি পান করে মারা যাচ্ছে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি-এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

নদীর ওপর নির্ভরশীল কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা পড়েছে সংকটে। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর এলাকার শিল্পকারখানার বর্জ্য খাল হয়ে সুতাং নদীতে মিশছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে পলি জমে নদীর নাব্যতাও কমেছে। পানি ও মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকেরা। অথচ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন নদীতীরের বাসিন্দারা।

ভারত ও বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদী সুতাংয়ের উৎপত্তি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। প্রায় ৮২ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে নদীটি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ সদর ও লাখাই উপজেলার ওপর দিয়ে কুশিয়ারা নদীতে মিশেছে। একসময় এই তিন উপজেলার শতাধিক গ্রামের মানুষের কৃষি, মৎস্য আহরণ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন ছিল নদীটি। কিন্তু শিল্পদূষণ, পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা পলি জমে নদীটি এখন অস্তিত্বসংকটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুতাং নদীর পানি বর্তমানে কুচকুচে কালো হয়ে গেছে। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে নদীর পাড়ঘেঁষা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে নাক-মুখ ঢাকতে হয়। শুকনো মৌসুমে এই পানি সেচের কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ ব্যবহার করলেও ফসল ও স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তাঁরা। বর্ষায় নদীর দূষিত পানি হাওরে ছড়িয়ে পড়ায় মাছের ক্ষতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একসময় যে নদী থেকে মাছ ধরে জেলেরা জীবিকা নির্বাহ করতেন, সেখানে এখন মাছের দেখা মেলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবেশদূষণের দায়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে হবিগঞ্জের মাধবপুরে সম্প্রতি ড্রাই স্টার্চ পাউডার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মার লিমিটেড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর এলাকার শিল্পকারখানাগুলোর দূষণ ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য খাল হয়ে সুতাং নদীতে পড়ছে। ফলে নদীটির দূষণ বাড়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি, জলজ প্রাণী ও জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

খাল হয়ে নদীতে পড়ছে শিল্পবর্জ্য

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রায় ১০ থেকে ১১ বছর আগে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর এলাকায় ১৪ থেকে ১৫টি শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শৈলজুড়া এলাকার একটি খালে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় আট থেকে নয় বছর আগে জেলা প্রশাসন ওই খালের দৈর্ঘ্য তিন কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে আরও দুই কিলোমিটার করে গদাইনগর এলাকায় সুতাং নদীর সঙ্গে যুক্ত করে দেয় বলে স্থানীয়দের দাবি। এতে খালের পানি সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে। অথচ খালটি একসময় স্থানীয় কৃষকেরা সেচের কাজে ব্যবহার করতেন।

অলিপুর এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেখানে গড়ে ওঠা অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি নেই। যেসব প্রতিষ্ঠানে ইটিপি রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো অতিরিক্ত খরচের কারণে নিয়মিত চালানো হয় না। তাঁদের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান ইটিপি স্থাপন করলেও সেগুলো বন্ধ রেখে কারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলছে। শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও এ ক্ষেত্রে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

শিল্পবর্জ্যের প্রভাবে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুরাবই, আলগাপুর ও শৈলজুড়া; হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের সাধুরবাজার, ভঙ্গুররহাটি, রাজিউড়া, ফান্দ্রাইল, সানাবই, উচাইল, বেকিটেকা, নাজিরপুর ও লুকড়া এবং লাখাই উপজেলার করাব, বুল্লা, বেগুনাই ও বরগান্দিসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দূষণের কারণে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, অলিপুর এলাকার একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ছোট-বড় পাইপের মাধ্যমে মাটির নিচ দিয়ে শৈলজুড়া খালে ফেলা হচ্ছে। পরে ওই বর্জ্যমিশ্রিত পানি সুতাং নদীতে গিয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন দূষণ চললেও তা বন্ধে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ তাঁদের।

২৭ হাজার হেক্টর জমির কৃষি হুমকিতে

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুতাং নদীর পানি ব্যবহার করে হবিগঞ্জ সদর ও লাখাই উপজেলার প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হতো। কিন্তু নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়ায় এখন ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাঁদের। এতে সেচের খরচ বেড়েছে। আবার পানি ও অর্থের সংকটে অনেক জমি অনাবাদি থাকছে, যা সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সদর উপজেলার আষেড়া, ফান্দ্রাইল ও উচাইল এবং লাখাই উপজেলার করাব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নদীর দুর্গন্ধ এড়াতে অনেকে নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দূষিত পানির কারণে শিশুদের নানা ধরনের অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। দূষিত পানি পান করে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি মারা যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। নদীতে মাছ না থাকায় জেলেদের আয়-রোজগারও কমে গেছে।

করাব গ্রামের মৎস্যজীবী বাবুল দাস বলেন, ‘আট-নয় বছর আগেও আমরা সুতাং নদ থেকে মাছ ধরে হবিগঞ্জ শহরে নিয়ে বিক্রি করেছি। এখন নদে মাছ তো দূরের কথা, পোকামাকড়ও নেই।’

একই এলাকার নিতেশ দেব বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একসময় এই নদে পুণ্যস্নান করতেন। কিন্তু দূষণের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে এখন পুণ্যস্নান তো দূরের কথা, পশুও ধোয়া হয় না।

লাখাই উপজেলার করাব গ্রামের কৃষক ছালেক মিয়া বলেন, ‘আমাদের অবস্থান ভাটি এলাকায় হওয়ায় বন্যার সময় সব জমিতে পানি উঠে যায়। আগে বন্যার পানি উঠলে জমির উর্বরতা বাড়ত। কিন্তু এখন আর জমির উর্বরতা বাড়ে না, উল্টো জমি নষ্ট হয়ে যায়। কারণ, সুতাং নদীর পানি বিভিন্ন কোম্পানির ময়লা-আবর্জনায় নষ্ট হয়ে গেছে।’

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আগে সুতাং নদীর পানি ব্যবহার করে বোরো ধান চাষ করতাম। কিন্তু নদীর পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে গভীর নলকূপের পানি দিয়ে চাষ করতে হচ্ছে। এতে খরচ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ধান চাষ করে এখন আর লাভবান হওয়া যাচ্ছে না। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে ধান চাষ ছেড়ে দিচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, নদীর পানি ব্যবহারের কারণে এলাকাবাসী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। দূষণের প্রতিবাদ করেও কোনো সুফল পাননি স্থানীয়রা।

সাধুরবাজারের ব্যবসায়ী মহসিন আহমেদ বলেন, ‘সুতাং নদীর পানি এতটাই দূষিত হয়েছে যে, এই পানি ধানের জমিতে দিলে ধানের চারা মরে যায়। এখানকার গরু-ছাগল ও হাঁস নদীতে নামানো হলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে।’

প্রতিবাদ করতেও ভয় পান স্থানীয়রা

সুতাং নদীর দূষণ নিয়ে প্রতিবাদ করেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন রাজিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম ফজল। তিনি বলেন, ‘শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস আমরা হারিয়ে ফেলেছি। কারণ, তাঁরা এতটাই শক্তিধর যে কেউ প্রতিবাদ করলে এলাকার প্রভাবশালীরা তাঁদের পক্ষ হয়ে চোখ রাঙান। আবার অনেক জনপ্রতিনিধি আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে পরে সুবিধা নিয়ে সরে দাঁড়ান। যে কারণে এই দূষণ রোধ করা যাচ্ছে না। আমরা চাই, নদীটি দূষণমুক্ত করা হোক।’

নদী বাঁচাতে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘আমরা বারবার কোম্পানিগুলোর প্রতি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইটিপি ব্যবহারের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু তারা সেদিকে না গিয়ে এ এলাকার খাল-বিল ও নদে শিল্পবর্জ্য ফেলে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটাচ্ছে।’

তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা কলকারখানাগুলো মাটি, পানি ও বায়ুদূষণ করছে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সুতাং নদীর দূষণ শুধু পানির ক্ষতি করছে না; নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তোফাজ্জল সোহেলের ভাষ্য, কুচকুচে কালো ও তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত পানি কৃষি কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। গবেষকদের পর্যবেক্ষণেও নদীর পানির ভয়াবহ দূষণের কারণে জলজ প্রাণের অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। কলকারখানা থেকে নির্গত অপরিশোধিত বর্জ্য বিভিন্ন খাল, বিল, হাওর ও কৃষিজমিতে মিশছে। পরে মেঘনা নদীর মাধ্যমে দূষণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তাঁর মতে, পরিবেশবিধ্বংসী শিল্পায়ন এই অঞ্চলের উন্নয়ন নয়, বরং ধ্বংস ডেকে আনছে। নদী রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সুতাং নদী একসময় কেবল স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে।

পরিবেশ ও উন্নয়ন গবেষক এবং সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন-জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুতাং নদীর দখল ও দূষণ রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়, জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায় বিরূপ প্রভাব পড়ে। শিল্পবর্জ্য ফেলে একটি প্রবহমান খরস্রোতা নদীকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। উন্নয়নের জন্য শিল্পায়ন প্রয়োজন, কিন্তু নদী দূষণ করে শিল্পায়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক আরও বলেন, সুতাং নদী রক্ষায় নদীর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, দূষণের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

পানি ও মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জলজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক ইফতেখার আহমেদ ফাগুন বলেন, ‘পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণে এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, পানি ও মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। এ ছাড়া শিল্পদূষণের ফলে নদীর পানির ভৌত-রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নদীর নিম্নপ্রবাহে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।’

তিনি জানান, নমুনা সংগ্রহের সময় গবেষকেরা নদীর নিম্নপ্রবাহে মাছের সংখ্যা অত্যন্ত কম দেখতে পেয়েছেন। বিশেষ করে শৈলজুড়া খালের সংযোগস্থলের আশপাশের এলাকা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। ওই স্থান দিয়ে শিল্পবর্জ্য নদীতে প্রবাহিত হয়। সেখানে কোনো মাছ বা জলজ প্রাণী পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

নজরদারিতে থাকার কথা বলছে পরিবেশ অধিদপ্তর

সুতাং নদীর দূষণের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো. ইউসূফ আলী বলেন, ‘সুতাং নদীর বিষয়টি যথাযথভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। সিলেট অফিসের লোকজন নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত করছেন। নির্দেশনা এলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় জেলা প্রশাসন

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ বলেন, সুতাং নদীর বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং তাঁরা বিষয়টি কঠোর নজরদারিতে রেখেছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছ এমপির নির্দেশে সম্প্রতি ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিনে তদন্ত করে গেছে। দলটি শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সুতাং নদীর দূষণ বন্ধে শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, ইটিপির কার্যকারিতা নিয়মিত পরীক্ষা, দূষণের উৎস শনাক্ত করা এবং দায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পাশাপাশি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। অন্যথায় নদীটির ওপর নির্ভরশীল কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা আরও সংকটে পড়বে। আগামী প্রজন্মের জন্য সুতাং নদী ও পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।