https://www.emjanews.com/

20047

national

প্রকাশিত

২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১১

আপডেট

২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৩

জাতীয়

ভুল চিকিৎসার অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১১

ছবি: সংগৃহীত

একটি অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক জটিলতা, সংক্রমণ আর একের পর এক অস্ত্রোপচারের ধকল চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এমন দুর্ভোগের জন্য জামালপুরের বেসরকারি এমএ রশিদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসককে দায়ী করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা সাবেরী শারমিন।

তাঁর অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় অনুমতি ছাড়াই জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অংশবিশেষ অপসারণ করা হয় এবং শরীরের ভেতরে কিছু অংশ থেকে যাওয়ায় পরবর্তী সময়ে জটিলতা দেখা দেয়। এ ঘটনায় করা মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

জামালপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত সাবেরী শারমিন শহরের পূর্ব নয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। তাঁর অভিযোগ, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তলপেটের ব্যথা নিয়ে এমএ রশিদ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তাঁর জীবনে শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০ জানুয়ারি তলপেটে ব্যথা নিয়ে তিনি হাসপাতালটিতে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ডিম্বনালি ও ডিম্বাশয়ের চারপাশে সংক্রমণ এবং ডান ডিম্বাশয়ে রক্তভর্তি সিস্ট রয়েছে। পরে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

এরপর ২৯ জানুয়ারি হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. সাবরিনা বরকত ও জেনারেল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের তত্ত্বাবধানে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।

সাবেরী শারমিনের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর বা স্বজনদের অনুমতি ছাড়াই জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অংশবিশেষ কেটে ফেলা হয়। তাঁর দাবি, অপসারণ করা অংশের কিছু অংশ শরীরের ভেতরে থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে সংক্রমণ দেখা দিলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

তবে অস্ত্রোপচারের সময় ঠিক কী করা হয়েছিল এবং পরবর্তী জটিলতার সঙ্গে তার সম্পর্ক কী, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে আবার অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। এরপর এমএ রশিদ হাসপাতাল ছেড়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

সেখানে ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করে সংক্রমিত তরল ও পুঁজ বের করা হয়। সাবেরী শারমিনের দাবি, ওই অস্ত্রোপচারের সময় আগের অস্ত্রোপচারের ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসে।

এরপরও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে যান তিনি। সেখানে ২৩ মার্চ তৃতীয় দফায় এবং ২০ জুন চতুর্থ দফায় তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।

একটি অস্ত্রোপচারের পর ধারাবাহিকভাবে আরও তিনটি অস্ত্রোপচার করাতে হওয়ার অভিজ্ঞতাকে চিকিৎসাজনিত অবহেলার ফল বলে দাবি করছেন সাবেরী শারমিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত চিকিৎসার পেছনে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

সাবেরী শারমিন বলেন, ‘একটি ভুল অপারেশনের কারণে আমাকে চারটি অপারেশন করাতে হয়েছে। তাই আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি ন্যায়বিচার চাই।’

তিনি জানান, এমএ রশিদ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁর ব্যয় হয়েছিল ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। কিন্তু পরবর্তী চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার ও সংশ্লিষ্ট খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রায় ৫০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।

তাঁর স্বামী সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন বলেন, ‘এমএ রশিদ হাসপাতালের বাইরের চাকচিক্য দেখে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকের ভুলের কারণে আমরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’

পরিবারটির অভিযোগ, চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাঁরা শুধু বিপুল অর্থ ব্যয় করেননি, দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক ও মানসিক দুর্ভোগের মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে।

ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এমএ রশিদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসক ডা. সাবরিনা বরকত ও ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে জামালপুর আমলি আদালতে মামলা করেছেন সাবেরী শারমিন।

সোমবার করা মামলাটির বিষয়টি মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জানা যায়। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে জামালপুরের সিভিল সার্জনকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সিভিল সার্জনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক আদালতের নির্দেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘২৬ অক্টোবর সন্ধ্যার পর আমরা আদালতের আদেশ হাতে পাই। আদালত স্বাস্থ্য বিভাগকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা দ্রুত একটি কমিটি গঠন করে তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেব ‘