শিরোনাম
রায়হান হ/ত্যা মা/মলায় আকবরের মৃ/ত্যুদণ্ড, দুই পুলিশ সদস্যের যাবজ্জীবন সিলেটে চাঞ্চল্যকর সাবানা হ/ত্যা/কা/ন্ডে ৪ জনের ফাঁ/সি সিলেটে নাতনির গোসল নিয়ে সং/ঘ/র্ষে প্রাণ গেলো দাদার সিলেটসহ সারাদেশে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনের সময় বাড়ল ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, সিলেটেও বৃষ্টির সম্ভাবনা সুনামগঞ্জে দুই সেতুর কাজ বন্ধ, এমপির বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সিলেটে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগের দুই নেতাকে আদালতে সোপর্দ সিলেটের পর এবার হবিগঞ্জেও আইফোনের জন্য বন্ধুকে খু/ন সিলেটে মিছিল দিতে গিয়ে ছাত্রলীগের ২ নেতা আ/টক সিলেটে বেড়াতে আসা ২ নারী পর্যটককে নিয়ে গাড়ি চালকের ভয়/ঙ্কর ফাঁদ: অল্পের জন্য রক্ষা

https://www.emjanews.com/

20043

national

প্রকাশিত

২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৪

আপডেট

২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪৯

জাতীয়

জাপানের সঙ্গে চুক্তিতে বিনিয়োগের আশা সরকারের, ভারতকে সুবিধা দেওয়ার আশঙ্কা এনসিপির

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৪

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের আশা, দুই দেশের প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হলে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। 

তবে একই সফরকে ঘিরে ভিন্ন সুর তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের অভিযোগ, জাপানের সঙ্গে চুক্তির আড়ালে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে ভারতকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে একদিকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রত্যাশা, অন্যদিকে জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এসেছে।

জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আশাবাদ সরকারের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মতে, জাপানের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হলে দেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে সিলেট নগরের ব্লু ওয়াটার শপিং সিটিতে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) কার্যালয়ে মাহা-ইমজা অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য জাপানের গুরুত্ব অনেক। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাপানের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় মাতারবাড়ীসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পেও জাপানের সহযোগিতা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও জানান, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) নিয়ে কাজ চলছে। চুক্তিটি জাপানের পক্ষ থেকে যাচাইয়ের জন্য আগামী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপনের কথা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বিভিন্ন পদ্ধতিগত জটিলতা দূর করা গেলে চুক্তিটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাপানে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

চুক্তির আড়ালে ভারতকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ এনসিপির
সরকার যখন জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তুলে ধরছে, তখন সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তাঁর অভিযোগ, জাপানের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের নামে বাংলাদেশের স্বার্থের বিপরীতে গিয়ে ভারতকে সুবিধা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় এনসিপির গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সমাবেশ সামনে রেখে দলটি এই কর্মসূচি চালাচ্ছে।

আখতার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনার কথা তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, জাপানের সঙ্গে চুক্তির নামে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে ভারতকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।

এনসিপির এই নেতার বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে মাতারবাড়ী বন্দরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক যোগাযোগের পরিকল্পনার বিষয়টি। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের আগেই ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মাতারবাড়ী বন্দরকে দক্ষিণ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথা এসেছে।

আখতার হোসেনের আশঙ্কা, সরাসরি ভারতের সঙ্গে সমঝোতা সম্ভব না হওয়ায় জাপানের মাধ্যমে ভারতকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এ ধরনের রাজনৈতিক কৌশল বুঝতে পারে এবং দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো দেশের কাছ থেকে ক্ষমতায় থাকার সমর্থন আদায়ের চেষ্টা গ্রহণ করবে না।