সুনামগঞ্জে পুকুরে বিষে মরলো ১০ লাখ টাকার মাছ, এক রাতেই শেষ চার বন্ধুর স্বপ্ন
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:২১
ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় পুকুরে পরিকল্পিতভাবে বিষ প্রয়োগ করে দশ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে দূর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। উপজেলার চার বন্ধু নিজেদের জমানো টাকা দিয়ে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু এক রাতেই তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ওই চার বন্ধু।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চিকসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
পরে শুক্রবার সকালে প্রতিবেশীরা পুকুরের পানিতে মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখে বিষয়টি উদ্যোক্তাদের জানান। খবর পেয়ে চার বন্ধু দ্রুত পুকুরপাড়ে গিয়ে দেখতে পান, তাদের চাষ করা অধিকাংশ মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠেছে। এ সময় পুকুরের পানিতে বিষের গন্ধ পাওয়া যায় বলে জানান তারা। এতে প্রায় দশ লাখ টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এবিএম বখতিয়ার, তৌহিদুল মিয়া, মুক্তার হোসেন ও মানিক মিয়া- চার বন্ধু নিজেদের জমানো টাকা ঋণের টাকা বিনিয়োগ করে পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। তাদের স্বপ্ন ছিল মাছ চাষের মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তা হয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করা। কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করায় তাদের সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
এ ঘটনায় চার বন্ধু আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নিজেদের সঞ্চিত অর্থ,পাড়া- প্রতিবেশী ও এনজিও থেকে ঋণের টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা উদ্যোগটি এক রাতেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তারা হতাশ ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। এ ঘটনায় গোটা এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং দ্রুতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, মাছ চাষ একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। তরুণরা নিজেদের উদ্যোগে মাছ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন, যা অত্যান্ত ইতিবাচক। এ ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করা সবার দায়িত্ব। কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ বা সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এভাবে কারও পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। আমি ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেব। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।
তাহিরপুর থানার (ওসি) মো. ফারুক আহমেদ বলেন, মৎস্য খামারিদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।