নিউইয়র্কে কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী চিকিৎসক গ্রেপ্তার
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:০১
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কুইন্সে এক কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ডা. ফজল ইউসুফ (৭২) নামে এক শিশু চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন, জোরপূর্বক স্পর্শ এবং শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গ্রেপ্তারের পর ঘটনাটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্ত শেষে পুলিশের স্পেশাল ভিকটিমস স্কোয়াড তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং ২০ বছর বয়সী এক তরুণীর সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগের একটি ঘটনা ঘটেছে কুইন্সের ফ্লাশিং এলাকায় অবস্থিত চিকিৎসকের চেম্বারে। প্রসিকিউটরদের দাবি, চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সেখানে যাওয়া ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হাত দিয়েছিলেন চিকিৎসক।
এ সময় ওই কিশোরীর সৌন্দর্য নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগে উল্লেখ করা ঘটনাগুলোর বিষয়ে আদালতে এখনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডা. ফজল ইউসুফের বিরুদ্ধে তৃতীয় ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক স্পর্শ এবং শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগগুলোর তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশের বিশেষ ভিকটিমস ইউনিট কাজ করেছে। তবে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী ও ২০ বছর বয়সী তরুণীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ এবং সেগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এ ঘটনায় আরও কেউ ভুক্তভোগী হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ কারণে সম্ভাব্য অন্য ভুক্তভোগীদের সামনে এসে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় কাউকে গ্রেপ্তার করা কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করলেই তিনি অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হন না। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনত নির্দোষ বলে গণ্য হন।
ডা. ফজল ইউসুফের বিরুদ্ধেও আনা অভিযোগগুলো এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তদন্ত, আদালতের শুনানি এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা নির্ধারিত হবে।
এদিকে সম্ভাব্য অন্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
