https://www.emjanews.com/

20254

surplus

প্রকাশিত

০২ নভেম্বর ২০২৬ ২২:০৩

অন্যান্য

সিলেটে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিধিমালা সংশোধনসহ ৬ দফা দাবি

বর্তমান যানবাহন রূপান্তরে কমপক্ষে দুই বছর সময় চান চালক-মালিকরা

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ২২:০৩

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের জন্য সরকারি বিধিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানিয়েছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ। বিদ্যমান যানবাহনের কাঠামো পরিবর্তনে কমপক্ষে দুই বছর সময় দেওয়া, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) অন্তর্ভুক্ত করা এবং নিবন্ধন ও নবায়ন ফি কমানোর দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় নগরের ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোডে সংগঠনের কার্যালয়ে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মীসভায় এসব দাবি জানানো হয়।

সংগ্রাম পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি শহিদ আহমদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা আবু জাফর, মনজুর আহমদ, আনিছুর রহমান, সৈকত আহমদ, মিজান মিয়া, অজয় পাল, আব্দুল্লাহ, হোসেন আহমদ, সমছু মিয়া, রণি আহমদ, দুলাল মিয়া, মাহফুজ আহমদ ও সজিব মিয়াসহ অন্য নেতারা।

সভায় বক্তারা বলেন, ২০১৩ সাল থেকে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য নীতিমালা ও বিধিমালা প্রণয়ন, নিবন্ধন, চালকদের লাইসেন্স ও রুট পারমিট প্রদানসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে সংগ্রাম পরিষদ। প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সঙ্গে যুক্ত তিন কোটি মানুষের এই খাতের জন্য ১৩ বছর পর সরকার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বিধিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংগঠনটি প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বিধিমালায় বেশ কিছু অসংগতি ও অস্পষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছে।

নেতারা বলেন, বিধিমালায় সিটি করপোরেশনের বাইরের জেলাগুলো অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে এ নিয়ে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া ই-রিকশার আদর্শ কাঠামো বা প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নকশার সুনির্দিষ্ট বিবরণ বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বর্তমান যানবাহনগুলোকে নির্ধারিত কাঠামোয় রূপান্তরের জন্যও কোনো সময়সীমা রাখা হয়নি।

তাঁদের দাবি, বিদ্যমান যানবাহন উচ্ছেদের ঝুঁকি তৈরি না করে কাঠামোগত সংশোধনের জন্য কমপক্ষে দুই বছর সময় দিতে হবে। এ-সংক্রান্ত বিধান ই-রিকশার আবেদন ফরমেও যুক্ত করতে হবে।

নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নিয়েও আপত্তি জানান নেতারা। তাঁরা বলেন, দুই আসনের ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চার আসনের ই-রিকশার ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ১০ হাজার ও বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। এই ফি চালক-মালিকদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই ফি কমানোর দাবি জানান তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের প্রধান অংশীদার চালক হলেও বিধিমালার সাতটি অধ্যায়, ২১টি ধারা ও চারটি তফসিলের কোথাও চালকদের লাইসেন্সের বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ নেই। অথচ বিপজ্জনকভাবে বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন কারণে চালকদের শাস্তির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের সুপারিশ করতে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও যানবাহন নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থা বিআরটিএকে বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

তাঁদের মতে, বিআরটিএকে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত না করলে যানবাহনের ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স নিশ্চিত করা কঠিন হবে। এতে ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে নিরাপদ পরিবহনে রূপান্তরের উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

চার্জিং স্টেশন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বিশেষ মিটার স্থাপনের অনুমোদন এবং গ্যারেজের ট্রেড লাইসেন্সসহ বেশ কিছু বিষয়েও বিধিমালায় স্পষ্ট নির্দেশনা নেই বলে অভিযোগ করেন নেতারা।

তাঁরা বলেন, লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা দলীয়করণ করা যাবে না। প্রকৃত চালক ও মালিকদের লাইসেন্সপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সভা থেকে বিধিমালায় সিটি করপোরেশনের বাইরের সারাদেশকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি স্পষ্ট করা, বিআরটিএকে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা, চালকদের লাইসেন্সের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা, ই-রিকশার আদর্শ কাঠামো সুনির্দিষ্ট করা এবং নিবন্ধন ও নবায়ন ফি কমানোর দাবি জানানো হয়।