ছবি: সংগৃহীত
২০১৯ সালে পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে পাকিস্তানের প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাক-ভারত বিজনেস কাউন্সিলের (পিআইবিসি) চেয়ারম্যান নূর মুহাম্মদ কসুরি।
সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি বিনিয়োগ, পর্যটন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্ক উন্নত বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ভিত্তি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কসুরি জানান, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য দূরবর্তী দেশ থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে পরিবহণ ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পণ্য আমদানিতে বেশি সময় লাগছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের ওষুধশিল্প একসময় ভারতীয় কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ভারত থেকে এসব কাঁচামাল আমদানি করা গেলে বছরে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব হতো।
ভারত থেকে তুলা আমদানি বন্ধ হওয়া এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ তুলা উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটির বস্ত্রশিল্পকেও বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের বস্ত্রকলগুলোকে এখন ব্রাজিল, মিসর, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে আনুমানিক অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে।
বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের কারণে ভারতের উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানকে দূরবর্তী দেশ থেকে চিনি, সার, সিমেন্ট, পেট্রোলিয়াম পণ্য, ইস্পাত, শাকসবজি ও ভারী যন্ত্রপাতি আমদানি করতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন কসুরি।
তিনি বলেন, ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি হওয়ায় ভারতের তেল শোধনাগার থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করলে পাকিস্তানের খরচ কমতে পারত এবং দ্রুত সরবরাহ পাওয়া সম্ভব হতো।
পাকিস্তানের আর্থিক সংকটের সময়ও ভারত সহযোগিতার ভূমিকা রাখতে পারত বলে মন্তব্য করেন পিআইবিসি চেয়ারম্যান। এ প্রসঙ্গে তিনি শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের সময় ভারতের আর্থিক সহায়তার উদাহরণ তুলে ধরেন।
কসুরি বলেন, কঠিন সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলো একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে। ভারত-পাকিস্তানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় চালু হলে দুই দেশের অর্থনীতিই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
