শিরোনাম
বিমানের দাম্মাম রুটে ফ্লাইট শুরু ৭ নভেম্বর সিলেটে গোপনে তৈরি হচ্ছিল নিষিদ্ধ ‘যৌন উদ্দীপক’ পণ্য, ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড সিলেটসহ সারাদেশে গ্যাস বন্ধের বিষয়ে পেট্রোবাংলা বলছে গুজব সিলেটে ময়লার ছবি তুলে জিতে নিন লাখ টাকা: সিসিকের ছবি তোলার প্রতিযোগিতা সিলেটে স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদ করায় স্বামীকে হ/ত্যা, গ্রেফ/তার এক দ্বারপ্রান্তে ‘মুরাসু’, চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা সৌদি প্রবাসীদের জন্য সরকারের ১৬ বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেল নিয়ে চিঠি, স্মারক নম্বরে সাল ২০১৯ এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ২০৬০ টাকা মৌমির সাফল্য পুরো সমাজের গর্ব: সিলেটের জেলা প্রশাসক

https://www.emjanews.com/

20271

sylhet

প্রকাশিত

০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৩:২০

আপডেট

০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৩:২১

সিলেট

সিলেটে ময়লার ছবি তুলে জিতে নিন লাখ টাকা: সিসিকের ছবি তোলার প্রতিযোগিতা

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৩:২০

সিলেট মহানগরীতে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা, খাল-ছড়া-নদী দূষণ কিংবা এডিস মশার প্রজননস্থলের ছবি তুলেই জেতা যাবে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা। নগরবাসীকে পরিবেশ সচেতন করা এবং পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।

প্রতিযোগিতায় পেশাদার ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনে ছবি তোলার জন্য থাকছে পৃথক দুটি বিভাগ। দুই বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের জন্য মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকার পুরস্কার রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি বিশেষ পুরস্কার মিলিয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

সিসিকের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেওয়া হয়। সিলেট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির (এসপিএস) কারিগরি সহযোগিতায় ‘সিলেট মহানগর এলাকায় ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিসসহ অন্যান্য মশার প্রজননস্থল এবং ছড়া, খাল, নদীসহ যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ’ শীর্ষক এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় সিলেট মহানগরীতে বসবাসরত পেশাদার, অপেশাদার আলোকচিত্রী, শিক্ষার্থীসহ যেকোনো নাগরিক অংশ নিতে পারবেন। তবে সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিচারক প্যানেলের সদস্যরা অংশ নিতে পারবেন না।

প্রতিযোগিতার একটি বিভাগে ডিএসএলআর, মিররলেস অথবা ডিজিটাল ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি জমা দেওয়া যাবে। অন্য বিভাগটি মোবাইল ফোনে ছবি তোলার জন্য। একজন প্রতিযোগী যেকোনো একটি বিভাগে অংশ নিয়ে সর্বনিম্ন একটি এবং সর্বোচ্চ তিনটি ছবি জমা দিতে পারবেন।

ছবির বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল, জমে থাকা পানি, মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, ছড়া-খাল-নদীতে বর্জ্য ফেলা, ড্রেন ও জলাশয়ে প্লাস্টিক-পলিথিনের দূষণ, বর্জ্যের কারণে জলাবদ্ধতা এবং পরিবেশ দূষণের চিত্র। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সচেতনতা ও পরিচ্ছন্ন নগরীর ইতিবাচক চিত্রও প্রতিযোগিতার জন্য বিবেচিত হবে।

ছবি তোলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে অনলাইনে নিবন্ধন ও ছবি জমা দেওয়া যাবে ৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আগ্রহীরা competition.scc.gov.bd ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে ছবি জমা দিতে পারবেন।

ছবি সাদাকালো অথবা রঙিন হতে পারবে। জমা দিতে হবে জেপিজি বা জেপিইজি ফরম্যাটে। ক্যামেরা বিভাগের ছবির ফাইলের আকার হতে হবে ৫ থেকে ২০ মেগাবাইট এবং মোবাইল বিভাগের ক্ষেত্রে ২ থেকে ২০ মেগাবাইট। ছবির মূল উচ্চ রেজল্যুশনের ফাইল সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে আয়োজকরা তা চাইতে পারবেন। সাধারণ ক্রপ, উজ্জ্বলতা, কনট্রাস্ট, এক্সপোজার ও রঙের সংশোধন করা গেলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি, কম্পোজিট বা বাস্তব দৃশ্য পরিবর্তন করা ছবি গ্রহণযোগ্য হবে না। ছবিতে কোনো ওয়াটারমার্ক, নাম বা বর্ডার ব্যবহার করা যাবে না।

ক্যামেরা বিভাগে প্রথম পুরস্কার ৬০ হাজার, দ্বিতীয় পুরস্কার ৪০ হাজার এবং তৃতীয় পুরস্কার ৩০ হাজার টাকা। মোবাইল বিভাগে প্রথম পুরস্কার ৪০ হাজার, দ্বিতীয় পুরস্কার ৩০ হাজার এবং তৃতীয় পুরস্কার ২০ হাজার টাকা। প্রতিটি পুরস্কারের সঙ্গে থাকবে ক্রেস্ট ও সনদ।

এ ছাড়া সেরা পরিবেশ সচেতনতামূলক আলোকচিত্র এবং সেরা ডেঙ্গু সচেতনতামূলক আলোকচিত্রের জন্য পৃথকভাবে ১৫ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। প্রশাসকের বিশেষ পুরস্কার হিসেবে থাকছে ২০ হাজার টাকা। বিশেষ পুরস্কারের সঙ্গে ক্রেস্ট ও সনদও দেওয়া হবে। তবে একজন প্রতিযোগী একাধিক মূল পুরস্কার পাবেন না।

সিসিকের গঠিত বিশেষজ্ঞ বিচারক প্যানেল মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে ছবি মূল্যায়ন করবেন। বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্য ও সচেতনতামূলক বার্তার জন্য ২৫ নম্বর করে, সৃজনশীলতা ও মৌলিকত্বের জন্য ২০, আলোকচিত্রের মান ও কম্পোজিশনের জন্য ২০ এবং সামগ্রিক নান্দনিকতার জন্য ১০ নম্বর রাখা হয়েছে। উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ন্যূনতম ৫০ নম্বর পেতে হবে।

প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত ছবিগুলো নিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাসে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। ছবির স্বত্ব ফটোগ্রাফারের থাকলেও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা, প্রদর্শনী, প্রকাশনা, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোকচিত্রীর নাম উল্লেখ করে ছবিগুলো ব্যবহারের অধিকার থাকবে সিসিকের।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অন্যের ছবি, ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ছবি, সিলেট মহানগরের বাইরের ছবি কিংবা নির্ধারিত সময়ের আগের ছবি জমা দিলে তা বাতিল করা হবে। ছবি তুলতে গিয়ে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ কিংবা নিজের বা অন্যের জীবনের ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।

প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। প্রয়োজনে ০১৭৮৬-৮৮৬৭৪৯ নম্বরে যোগাযোগের কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।