সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে আজ শনিবার (৫ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার পণ্য পরিবহন বন্ধের কর্মসূচি পালন নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। ফলে এই ধর্মঘট পালিত হবে কিনা, তা নিয়ে তাদের মধ্যেই রয়েছে অনিশ্চয়তা।
একপক্ষ আন্দোলনের পক্ষে অনড় থাকলেও, অন্যপক্ষ পবিত্র আশুরা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সিলেট সফরের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ দফা দাবির তালিকা থেকেও জেলা প্রশাসকের অপসারণ সংক্রান্ত দাবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দিলু মিয়া ইমজা নিউজকে জানান, তাদের দাবিগুলো সম্পূর্ণ ন্যায্য ও যৌক্তিক। সরকারকে শুক্রবার (৪ জুলাই) রাত পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ না আসায় তারা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, দাবি আদায় না হলে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির পর সিলেট জেলার সকল গণপরিবহন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হবে।
পাঁচ দফা দাবি হালনাগাদ করেছেন তারা। তাদের বর্তমান দাবিগুলো হলো: বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারিগুলো পুনরায় চালু করা, ক্রাশার মেশিন ধ্বংস অভিযান বন্ধ করা, পাথরবাহী ট্রাক আটকের অবসান, চালকদের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করা, বিআরটিএ অফিসে শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ করা।
পূর্বঘোষিত দাবির তালিকায় জেলা প্রশাসকের অপসারণের বিষয়টি থাকলেও, তা বর্তমান বক্তব্যে আর উল্লেখ করা হয়নি। দিলু মিয়াও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এই আন্দোলনের সময়সূচি এবং প্রেক্ষাপট নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন পাথর মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা। ইমজা নিউজকে তিনি বলেন,' শনিবার সরকারি ছুটি এবং রবিবার পবিত্র আশুরা, এমন দুটি দিনে কর্মবিরতি ডাকা অযৌক্তিক। আশুরা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দিন। এই দিনে ধর্মঘট বা বিক্ষোভ গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরও জানান, ৭ জুলাই সিলেটে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা আসার কথা রয়েছে। এমন সময়ে ধর্মঘট রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিতে পারে। তিনি বলেন, তারাও আন্দোলনের পক্ষে, তবে সেটি হবে সময় বিবেচনায় এবং সুপরিকল্পিতভাবে।
বেশ কিছু কর্মসূচি পালনের পর গত বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সেখানে এই পক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ‘৪ জুলাইয়ের মধ্যে সরকার যদি দাবি মেনে না নেয়, তাহলে ৫ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু হবে।’
সেদিন ঘোষিত পাঁচ দফা দাবিগুলো ছিল: পাথর কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়া, ক্রাশার মেশিন ধ্বংস অভিযান বন্ধ, পাথর পরিবহনকারী ট্রাক আটকানো বন্ধ, চালকদের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ এবং সিলেটের জেলা প্রশাসকের অপসারণ।
তবে আজকের কর্মসূচিতে দাবি নম্বর পাঁচ পরিবর্তন করে সেখানে বিআরটিএ অফিসে শ্রমিক হয়রানি বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
