বিশ্বনাথের সুমেল হত্যা মামলার রায় : ৮ আসামীর ফাঁ-সি, ৭ জনের যাব.জ্জীবন
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৫ ১৩:০৮
ছবি: ইমজা নিউজ
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার স্কুল ছাত্র সুমেল হত্যা মামলায় ৮ আসামীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। সেই সাথে ৭ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে আদালত। বুধবার (৩০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সৈয়দা আমিনা ফারহীন এই মামলার রায় ঘোষনা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর আশিক উদ্দিন।

রায় ঘোষনার পর আসামীদের কারাগারে নেয়া হচ্ছে।
.jpeg)
ফাঁসির দন্ড প্রাপ্তরা হলো যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলম, নজরুল আলম, সদরুল, সিরাজ উদ্দিন, জামাল, রাজন মিয়া শাহিন, আব্দুল জলিল, আনোয়ার হোসেন
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলো, ইলিয়াছ মিয়া, আব্দুন নুর, জয়নাল, আশিক, আসকির মিয়া, ফরিদ মিয়া, আকবর মিয়া।
২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন লুৎফুর রহমান, ময়ুর মিয়া, মামুনুর রশিদ (পলাতক), কাউসার, দিলাফর আলী, পারভেজ, ওয়াহিদ, দিলোয়ার হোসেন,মুক্তার আলী, আব্দুর রকিব, আঙ্গুর আলী, জাবেদ ইসলাম, শফিক, মখলিস আলী, ফিরোজ মিয়া, ফখর উদ্দিন, আজাদ মিয়া।
এই আদালতের পিপি কামাল হোসেন জানান, রায় ঘোষণা শেষে তাদের সবাইকে করাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। একজন পলাতক রয়েছে। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।
২০২১ সালের ১ মে (শনিবার) বিকেলে বিশ্বনাথ উপজেলার চৈতননগরের নজির উদ্দিন ও মানিক মিয়ার জমিতে জোরপূর্বকভাবে মাটি কাটতে যায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলম। মাটি কাটতে নিষেধ দিলে সাইফুল আলম ও তার বাহিনী বন্দুক, পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নজির উদ্দিন ও মানিক মিয়ার পক্ষের লোকজনের উপর হামলা চালায়। হামলায় স্কুলছাত্র সুমেল, তার বাবা আব্দুল মানিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নেওয়ার পথে সুমেল মারা যায়।
বিশ্বনাথ এলাকার যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলম বহু অপকর্মের হোতা। ভূয়া মৎস্যজীবী সমিতি গঠন করে চাউলধনী হাওর লিজ নিয়ে কৃষকদের উপর দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়ন চালিয়ে আসছিলেন সাইফুল আলম। তার ছিল নিজস্ব অস্ত্রধারী বাহিনী। বিগত সরকারের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে দাপট দেখিয়ে বেড়াতেন। হামলার দিনও গুলির পর সে নিজেই থানায় ফোন করে উল্টো অভিযোগ দেয় এবং পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়।
স্কুলছাত্র সুমেল আহমদ শুকুর স্থানীয় শাহজালাল (রহ.) উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। ঘটনার পর ৩ মে বিশ্বনাথ থানায় ৪ নম্বর হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সুমেলের চাচা ইব্রাহীম আলী সিজিল। মামলায় ৩২ জনকে আসামি করা হয়। যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলমকে করা হয় প্রধান আসামি। আসামীরা মামলাটিকে ভিন্নখাতে নিতে হাইকোর্ট বিভাগে কমপক্ষে দশটি রীট করে মামলাটি বিলম্বিত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
আসামীদের মধ্যে মামুনুর রশিদ ছাড়া সবাই রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন। মামুনুর রশিদ শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
