https://www.emjanews.com/

11403

economics

প্রকাশিত

১৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৫৬

অর্থনীতি

আইএমএফের সতর্কতা: দুর্বল রাজস্ব আদায় ও ব্যাংকিং ঝুঁকিতে বড় চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৫৬

ছবি: সংগৃহিত

দুর্বল রাজস্ব আহরণ, আর্থিক খাতের ঝুঁকি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বড় ধরনের ম্যাক্রো-ফাইন্যান্সিয়াল চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বাংলাদেশ- এমন সতর্কতা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ সতর্কতা জানানো হয়।

২৯ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলা ১৩ দিনের পর্যালোচনা মিশন শেষে এ মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে আইএমএফ। মিশনের নেতৃত্ব দেন ক্রিস পাপাজর্জিও।

বিবৃতিতে বলা হয়, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বাংলাদেশ কিছু অগ্রগতি অর্জন করলেও রাজস্ব ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা সমাধানে “সাহসী ও কার্যকর নীতি গ্রহণ জরুরি”। নীতিগত পদক্ষেপে বিলম্ব হলে অর্থনীতি নতুন ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও সংস্থাটি সতর্ক করেছে।

আইএমএফ জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রভাব। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্ক থেকে ৮ শতাংশে নেমে এলেও তা এখনও তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে আছে।

মিশন প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও বলেন, ‘বাহ্যিক ভারসাম্য রক্ষা ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সাম্প্রতিক সময়ে রাজস্ব ও আর্থিক নীতিতে কঠোরতা এনেছে। বিনিময় হার সংস্কারের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের ধারা শুরু হয়েছে।’

তবে তিনি সতর্ক করেন, দুর্বল কর আদায় ব্যবস্থা ও ব্যাংক খাতের মূলধন ঘাটতি এখনও দেশের জন্য বড় ঝুঁকি।

আইএমএফ জানায়, রাজস্ব খাত ও ব্যাংকিং খাতে কাঠামোগত সংস্কার বিলম্বিত হলে প্রবৃদ্ধি আরও দুর্বল হবে এবং মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে। সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সংস্কার সফল হলে ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৫.৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় বাড়াতে কর কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। তাদের সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- হ্রাসকৃত ভ্যাট হার বাতিল, অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি প্রত্যাহার (অপরিহার্য পণ্য ব্যতীত), সব প্রতিষ্ঠানের জন্য টার্নওভার করহারে বৃদ্ধি. কর প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা মোকাবিলার আহ্বান।

বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্বল ব্যাংকগুলোর সমস্যার সমাধানে একটি সমন্বিত সরকারি কৌশল প্রয়োজন। এতে থাকতে হবে- ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ, আইনি কাঠামোর সংস্কার, সরকারি সহায়তার কাঠামো নির্ধারণ, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার জোরদার।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সম্পদমান পর্যালোচনা ও পরিচালনা ব্যবস্থার উন্নয়নেও জোর দিয়েছে আইএমএফ।

আইএমএফ আরও বলেছে, মধ্যমেয়াদে শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা, যুব বেকারত্ব হ্রাস ও অর্থনীতির বহুমুখীকরণ ত্বরান্বিত করতে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়াবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।