সিলেট মহানগর এলাকায় রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া স্বর্ণের বার দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। পুলিশ বলছে, পিতল বা ইমিটেশনের নকল স্বর্ণের বারকে আসল স্বর্ণ হিসেবে দেখিয়ে একটি চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল।
এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নিঃ) আমির হোসেনের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল সিলেটের কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেন (৪৭) নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রতারক চক্রটি পরিকল্পিতভাবে রিকশাচালক সেজে যাত্রীদের টার্গেট করত। তারা কাগজে মোড়ানো একটি নকল স্বর্ণের বার রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়ার অভিনয় করে। পরে রিকশায় থাকা যাত্রীর হাতে সেটি দিয়ে কাগজে কী লেখা আছে তা জানতে চায়।
কাগজে স্বর্ণ সম্পর্কিত বিশ্বাসযোগ্য লেখা থাকায় অনেকেই সেটিকে আসল স্বর্ণের বার বলে মনে করেন। এরই মধ্যে চক্রের অন্য সদস্যরা ক্রেতা সেজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই বারের দাম বেশি বলে দাবি করে এবং বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে বিক্রি করার প্রলোভন দেখায়।
একপর্যায়ে নিরীহ যাত্রীরা সেটিকে আসল স্বর্ণ মনে করে কিনে ফেললে প্রতারণার শিকার হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক আলমগীর হোসেন সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার শিওরখাল এলাকার মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমা থানার কদমতলী এলাকায় বসবাস করছিলেন।
পুলিশ বলছে, তিনি প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ একাধিক মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
যদিও প্রতারণার এই কৌশল নতুন নয়, তবে সাধারণ মানুষ বিষয়টি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারক চক্রটি সাধারণত রাস্তায় নকল স্বর্ণের বার ফেলে রেখে সেটিকে আসল স্বর্ণ বলে বিশ্বাস করিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক থাকতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
