ফাইল ছবি
সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার জনগোষ্ঠী হিজড়া পরিচয়ে বসবাস করলেও নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকায় তারা তালিকাভুক্ত হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত হালনাগাদ ভোটার তালিকায় এ চিত্র ফুটে উঠেছে। জাতীয় জনপরিসংখ্যানের বাইরে থাকায় একদিকে এদের রাষ্ট্রের জনশক্তি হিসেবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে অপরাধ করার পর তারা আইনের ধরা–ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী সিলেট বিভাগের চার জেলা ও সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে হিজড়া ভোটার মাত্র ৮৭ জন। সিলেট মহানগরসহ ৪১টি উপজেলা, ৩৪০টি ইউনিয়ন, ১৯টি পৌরসভা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে মোট ভোটার দাঁড়িয়েছে ৯১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৬ জন।
বিভাগের চার জেলার মধ্যে সিলেট জেলায় ভোটার সংখ্যা ৩১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৯৭০ জন, মহিলা ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪০৮ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১৮ জন।
হাওর-বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলায় ভোটার সংখ্যা ২২ লাখ ৭৪ হাজার ১০৩ জন। পুরুষ ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৭২৬ জন, মহিলা ১০ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৪ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩৩ জন।
মৌলভীবাজার জেলায় মোট ভোটার ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ১৯ হাজার ৮১৩ জন, মহিলা ৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৬৭ জন এবং হিজড়া ভোটার সংখ্যা ৮ জন।
হবিগঞ্জ জেলায় মোট ভোটার ২০ লাখ ৭ হাজার ৮৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ৩২ হাজার ৩৪৫ জন, মহিলা ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৬ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২৮ জন।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট এ টি এম ফয়েজ বলেন, “এরা বিশেষ জনগোষ্ঠী। তাদের আচরণও উগ্র। এদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হলেও জাতীয় পরিচয় প্রয়োজন। তারা যদি কোনো অপরাধে সম্পৃক্ত হয়, বিচার প্রক্রিয়াতেও জাতীয় পরিচয়পত্র দরকার। এমনকি তারা বিচার প্রার্থী হলেও জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো প্রতিকার পাবেন না। তাই বিকল্প ব্যবস্থায় হলেও এদের জাতীয় ডাটায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।”
