ফাইল ছবি
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা–ফেঞ্চুগঞ্জ–বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল মালেক ও তার পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকর্মীদের লাঠি দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে পক্ষে আনার অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা এবং কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম ২৩ নভেম্বর দক্ষিণ সুরমায় এক উঠান বৈঠকে প্রকাশ্যে এ অভিযোগ তোলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একজন প্রাথমিক মনোনয়ন নিয়ে এসে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করে তৃণমূলকে হুমকি দেবেন, লাঠি দেখিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন—এমন আচরণ দলের নির্বাচনী বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।”

প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই বিরোধ
গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেট-৩ আসনে লন্ডনপ্রবাসী ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মালেককে প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের বড় অংশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরদিন থেকেই প্রার্থী রিভিউর দাবি উঠতে শুরু করে।
ফেসবুকে ‘জননেতা কাইয়ুম ভাইয়ের সমর্থক’ নামের পেজসহ একাধিক পেজ খুলে স্থানীয় বিএনপির বড় অংশ জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানাতে থাকে। তিন উপজেলার বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে কাইয়ুমের পক্ষে অবস্থান নেন।
দীর্ঘদিন মাঠে থাকা নেতাদের পাশ কাটিয়ে মালেকের মনোনয়ন
দলীয় সূত্র জানায়, এ আসনে এম এ মালিক ছাড়াও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এম এ সালাম এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল। মাঠে দীর্ঘদিন সক্রিয় তিন নেতাকে পাশ কাটিয়ে মালেককে প্রার্থী ঘোষণায় তৃণমূলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
উপরে এসব বিরোধ ও অসন্তোষ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—এমনকি লন্ডনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরেও আসে। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শোডাউনের পর উত্তেজনা চরমে
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন টানতে ব্যর্থ হয়ে মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মালেক গত ২২ নভেম্বর দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল এলাকায় বড় ধরনের শোডাউনের আয়োজন করেন। সিলেট-৩ আসনের বাইরে থেকেও ছাত্রদল–যুবদলসহ বিভিন্ন ইউনিট থেকে লোক সমাগম ঘটানো হয়।
কিন্তু স্থানীয় অনেক নেতা-কর্মী ওই শোডাউনে যোগ না দিলে মালেকপন্থী নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের একাংশ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ওপর সরাসরি বলপ্রয়োগ ও হুমকির আশ্রয় নেয়।
অভিযোগ অস্বীকার মালেকের
অভিযোগ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল মালেক বলেন, “এম এ সালাম সাহেবের বক্তব্য তার ব্যক্তিগত অসন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ। আমার নেতাকর্মীরা কাউকে হুমকি দিয়েছে—এ রকম কোনও ঘটনার কথা আমার জানা নেই।”
তিনি আরও দাবি করেন যে, তার পক্ষে মাঠে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন রয়েছে এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
