https://www.emjanews.com/

11862

sylhet

প্রকাশিত

০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:১৯

আপডেট

০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:১১

সিলেট

ডোনা সীমান্তে চো রা চা লা ন রুটে অ*প*রা*ধীর নিরাপদ আবাস গড়ে উঠেছে

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:১৯

ছবি: উপরে ছয়ফুল (১৮), নীচে ঘাতক সাকিল ও সুমন। (ফাইল ছবি)

সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে ইয়াবা কারবারের টাকার ভাগ–বাটোয়ারা কেন্দ্র করে ছয়ফুল ইসলামকে (১৯) হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সীমান্তবর্তী ডোনা এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিচিত। গরু–মহিষ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আনার পথ হিসেবে ব্যবহৃত এই রুট আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ তিন বছরে ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কেরবাজার এলাকায় গড়ে ওঠা চক্রের আড্ডাখানা আজও সক্রিয় রয়েছে। এদিকে ছয়ফুল হত্যাকান্ডের দুই ঘাতক সাকিল ও সুমন এলাকায় থাকলেও আইনশৃংখলা বাহিনী সেখানে পৌছতে পারেনি।

রবিবার সন্ধ্যায় ডোনা সীমান্তের রাতাছড়া গ্রামে ছয়ফুল ইসলামকে খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে আনানো ইয়াবা বিক্রির ২ লাখ টাকার ভাগ–বাটোয়ারা নিয়ে ছয়ফুলের সঙ্গে তার সহযোগী সাকিল আহমদ ও সুমন আহমদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একই গ্রামে বসবাস করলেও তারা তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথে ইয়াবা ও অন্যান্য চোরাইপণ্য আনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে থেকে ছয়ফুলকে ধরে নিয়ে সাকিলের বাড়ির বারান্দায় একটি খুঁটিতে বেঁধে ফেলা হয়। সেখানে টাকা লেনদেন নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে সাকিল ও সুমন দা দিয়ে ছয়ফুলের মাথায় পরপর কোপ দেন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন সোমবার সকালে ছয়ফুলের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত সাকিলের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন। তারা সাকিলের পিতা আব্দুল হান্নান হানাইকেও আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক তমিজ উদ্দিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডোনা সীমান্তকে প্রকাশ্যে চোরাচালানের পথে পরিণত করেছিলেন। তার দাবি, চেয়ারম্যান ট্যাক্সের নামে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে টাকা আদায় করতেন, যা দিয়ে প্রভাবশালীদের সন্তুষ্ট রাখা হতো। আওয়ামী লীগ পতনের পরও এই নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমানে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হামলার ৮টি মামলায় তমিজ উদ্দিন চেয়ারম্যান কানাইঘাট সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন এমন তথ্য থাকলেও তার সঙ্গে বারবা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বলেন, ছয়ফুল হত্যাকাণ্ডে এখনও নিহতের পরিবার থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সীমান্ত এলাকায় পুলিশি অভিযান চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সাকিলের পিতা হানাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ছয়ফুল চোরাচালান চক্রের বলি কিনা—তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

সীমান্তবর্তি ও দুর্গম এলাকায় হওয়ায় নানা অপরাধীরা এই এলাকাকে নিরাপদ মনে করে। এতেই দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকা অপরাধপ্রবন বলে মনে করেন ওসি মো: আব্দুল আউয়াল।