সিলেটে কুরিয়ার সার্ভিস এস এ পরিবহনের কাভার্ড ভ্যানে পার্সেল ডাকাতির ঘটনায় র্যাব–৯ এর অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত আফজল হোসেন শিপু (৩০) ওসমানীনগর থানার, দুলিয়ারবন্দ (তাজপুর) এলাকার মৃত তুরন মিয়ার ছেলে।
র্যাব জানায়, গত ২৩ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে এস এ পরিবহনের নাইওরপুল শাখা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি কাভার্ড ভ্যান পার্সেলসহ রওনা দেয়। রাত সাড়ে ১২টার সময় ওসমানীনগর থানার তাজপুর এলাকায় ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে পৌঁছালে দুই মোটরসাইকেলে ছয়জন এবং একটি পিকআপে থাকা আরও চারজন ভ্যানটির সামনে ব্যারিকেড দেয়।
এসময় কাভার্ড ভ্যান থামানোর পর তারা দরজার গ্লাস ভাঙার চেষ্টা করে। সুপারভাইজার ও ড্রাইভার দরজা খুলে দিলে চারজন ভ্যানের ভেতরে উঠে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে সুপারভাইজারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মারধর করে এবং গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয়। পরে তিনজন ডাকাত সুপারভাইজারকে তাদের পিকআপে তুলে মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। একই সময় দুইজন ডাকাত ড্রাইভারের পেটে ছুরি ধরে তাকে নিয়ে কাভার্ড ভ্যানটি মঙ্গলচন্ডী রোডের দিকে নিয়ে যায় এবং প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি নির্জন স্থানে থামায়।
পরে আনুমানিক ১৫–১৬ জন ডাকাত কাভার্ড ভ্যানের পিছনের দুটি তালা ভেঙে ভেতরে থাকা তালার চাবি দাবি করে। সুপারভাইজার চাবি দিতে না পারায় তাকে দুই দফা মারধর করা হয় এবং মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে চাবি নেওয়ার পর পেছনের দরজা খুলে মালামাল ডাকাতি করে পিকআপে তুলে নিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী সুপারভাইজার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন।
ঘটনার পর র্যাব–৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ায়। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে র্যাব–৯, সদর কোম্পানির একটি দল সিলেট নগরীর জিতু মিয়ার পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিপুকে আটক করে।
র্যাব–৯ এর মিডিয়া অফিসার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আটক ব্যক্তিকে ওসমানীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব–৯ এর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো জানান, এই ডাকাতির ঘটনায় গত ১৪ অক্টোবর দেওয়ান হৃদয় (২৫) নামে আরো একজনকে আটক করেছে র্যাব।
