https://www.emjanews.com/

11891

sylhet

প্রকাশিত

০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:৫১

আপডেট

০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩:১৭

সিলেট

সিলেটে মালামাল সহ ডাকাত দল আটক: এর মাঝে রয়েছে বিএনপি নেতাও!

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:৫১

ছবি: মালামাল সহ আটক ডাকাত সদস্যরা।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মোগলাবাজার থানা পুলিশের দ্রুত অভিযানে ডাকাতির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লুট হওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার হয়েছে। এসময় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একাধিক ডাকাত বিএনপির সক্রিয় সদস্য হিসেব ব্যাপক ভাবে আলোচিত হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, সোমবার (০১ ডিসেম্বর) ভোর ৩টা ১৫ মিনিটে সিলেট–ফেঞ্চুগঞ্জ রোডের লালমাটিয়া–রয়েল সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন স্থানে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের একটি কাভার্ড ভ্যানকে একটি সাদা নোহা গাড়ি ব্যারিকেড দেয়। পরে নোহা ও আরেকটি সাদা প্রাইভেট কার থেকে ৬–৭ জন সশস্ত্র ডাকাত চালক ও হেলপারকে মারধর করে এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে কনটেইনার খুলে মালামাল লুট করে। একই সঙ্গে হেলপারদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ডাকাতদল। ঘটনার পর মোগলাবাজার থানায় মামলা (নং–০১/১৫২, তারিখ–০১/১২/২০২৫, ধারা–৩৯৫/৩৯৭) রুজু হয়।

ছবি: বিএনপির কর্মসূচিতে ডাকাত রিহাদ।

এরপর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্য প্রযুক্তি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) রাত ৩টা ১০ মিনিটে মোগলাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শামছুল হাবিবের নির্দেশনায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী তোবারক হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ পশ্চিমভাগ আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথম আসামি সাকেল আহমদ (৩৩)–কে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাত ৩টা ৪০ মিনিটে পূর্ব শ্রীরামপুর এলাকা থেকে দ্বিতীয় আসামি আক্তার হোসেন (৩৪)–কে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে সুলতানপুর এলাকা থেকে তৃতীয় আসামি রিহাদ আহমেদ (৩৭)–কে আটক করে পুলিশ।

গ্রেফতারের পর তিনজনই উপস্থিত লোকজনের সামনে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অকপটে স্বীকার করে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে আসামি রিহাদের বাড়ির বাউন্ডারির ভেতরে কচুর ঝোপে লুকানো ৩টি সাদা বস্তা, ২টি কালো পলিথিন বস্তা ও ২টি খাকি রঙের কার্টুনে রাখা ডাকাতির মালামাল উদ্ধার করা হয়।

এসএমপি জানায়, গ্রেফতার তিনজন একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য এবং তারা সিলেট মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ডাকাতি করত। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

এসএমপি মিডিয়া সেলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাডিসি মিডিয়া (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ডাকাতির মালামাল উদ্ধার ও গ্রেফতারের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ডাকাত দলের সদস্য রিহাদ আহমদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, রিহাদ গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ট্রাক্টর প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির সক্রিয় সদস্য হিসেবেও পরিচিত। আটক তিনজনের মধ্যে দুই জনকে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে তার বিভিন্ন সময়ের তোলা ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।