https://www.emjanews.com/

11907

sylhet

প্রকাশিত

০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:২০

সিলেট

একটি পাকা রাস্তার অপেক্ষায় ৪০ হাজার মানুষ

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:২০

ছবি: সংগৃহিত

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার পিছিয়ে পড়া একটি জনপদের নাম শিকপুর–ঘাঘুয়া। যেখানে সময় যেন আটকে আছে কাদামাটির গভীরে। মানুষ যখন প্রযুক্তির ব্যবহার করে উন্নত জীবনের স্বপ্ন বুনছে, ঠিক সেই সময়ে এসে একটি জনপদের মানুষের স্বপ্ন শুধুমাত্র একটা রাস্তাকে কেন্দ্র করে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ মানুষের মুখে যখন বিয়ানীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ৬ লেন এর কাজ শুরু করা নিয়ে হতাশা ঠিক সেই সময়ে আমুড়া ইউনিয়নের শিকপুর-ঘাঘুয়া এলাকার মানুষ একটি পাকা সড়কের জন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে ধরনা দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের কাছি দাবি জানিয়ে আসছেন কয়েক বছর থেকে। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের সেই রাস্তাটা ৪০ হাজার মানুষের দুর্ভোগের নিত্যসঙ্গী। শীতে রোগী বহনের একমাত্র সম্বল টেলাগাড়ি। আর বর্ষায় মানুষকে কাঁধে তুলে, কাদায় ডুবে, জীবনের প্রতি মূহূর্তে ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে ছুটতে হয় ডাক্তারের কাছে। এই পথে এভাবেই অনেক রোগী হাসপাতাল নয়, পৌঁছেছেন মৃত্যুর কাছাকাছি।।

শিকপুর এলাকার বাসীন্দা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর থেকে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে মারাত্মক দূর্ভোগের শিকার হচ্ছি। কোন ধরনের যানবাহন আমাদের এলাকায় আসতে চায় না শুধুমাত্র কাদামাটির রাস্তার জন্য। উপজেলা কিংবা জেলা শহরের সাথে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা সংস্কারের জন্য কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে অসুস্থ রোগীদেরকে অ্যাম্বুলেন্স করে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এই এলাকার মানুষের।’

কলেজ পড়ুয়া মান্নি আক্তার বলেন, ‘কলেজে যাবার জন্য প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে তারপর গাড়িতে উঠতে হয়, এখানে কোন গাড়ি আসে না রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে। আমরা এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই।’

প্রবীণ কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আমাদের এই এলাকায় প্রচুর সবজি উৎপাদন হয়। কিন্তু পরিবহনের কারণে সেগুলো অতিরিক্ত কম মুল্যে পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে শুধুমাত্র রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে। সেজন্য অনেক কৃষক সবজি উৎপাদন ছেড়ে দিছেন। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ ভর্তুকি দিয়ে ফসল উৎপাদন করবে না।’

ঘাঘুয়া গ্রামের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছামিউল আলম বলেন, 'স্কুলে যাওয়ার লাগি রেডি অইয়া বারইলাম কিন্তু মাঝপথে যাওয়ার পর পিছলা খাইয়া পড়ি গেলাম। আবার বাড়িতে আইয়া কাপড় পরিবর্তন করিয়া স্কুলে যাওয়া যায় না, সময় শেষ অইযায়। মাঝেমধ্যে এইরকম প্রায়শই দূর্ঘটনা ঘটে।’

জানা যায়, ২০১৯ সালে এই এলাকার মানুষের দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে রাস্তা নির্মাণের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ আসে। সেই অনুযায়ী রাস্তা উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করার এক পর্যায়ে অদৃশ্য কারণে রাস্তা নির্মাণের কাজ থেকে যায়। মাটি ভরাট হয়নি এমন অভিযোগ এনে রাস্তা নির্মাণের প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হয়নি দীর্ঘ ৬ বছরেও।

এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাজের ব্যাস্ততা দেখিয়ে কল কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।