সিলেটের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কুয়ারপাড় এলাকায় চেকপোস্ট চলাকালে একটি ডিআই পিকআপে মজুত অবস্থায় ভারতীয় পেঁয়াজ উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে আটক দু’জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নবাব রোড এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় জিরা ও ফুসকাসহ আরও তিনজনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা পণ্যগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোতোয়ালী এলাকার হযরত ইলুলার শাহ (রহ.) মাজারের সামনে চেকপোস্ট পরিচালনাকালে ডিআই পিকআপ থেকে ১৪৪০ কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ উদ্ধার করা হয়। পেঁয়াজের আনুমানিক মূল্য প্রায় এক লাখ আট হাজার টাকা। এ সময় আটক করা হয় আটককৃত আফনান আহমেদ (১৯), সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ থানার জয়সিদ্ধি গ্রামের মৃত ছয়ফুল ইসলামের ছেলে এবং আশরাফুজ্জামান (২২), সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ থানার রঘুনাথপুর এলাকার শফিক আলীর ছেলে। বর্তমানে তারা ছড়ারপাড় এলাকায় বসবাস করছেন।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যে একইদিন সন্ধ্যায় কোতোয়ালী মডেল থানাধীন নবাব রোডের হাজী আব্দুল গাফফার ভিলার গ্যারেজ ও পেছনের কক্ষে অভিযান চালায় ডিবি। সেখানে মজুত থাকা ৬৫ বস্তা ভারতীয় জিরা (মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা), ছেঁড়া অবস্থায় আরও ১৫ কেজি জিরা (আনুমানিক মূল্য ১২ হাজার টাকা) এবং ৯০০ প্যাকেট ভারতীয় ফুচকা (আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা) উদ্ধার করা হয়।
এসময় আরো ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন, সিলেটের কোতোয়ালী থানার নবাব রোড এলাকার মৃত আব্দুল গাফফারের ছেলে আব্দুল হক (৪৬), সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ থানার রঘুনাথপুর এলাকার মৃত আফতাব মিয়ার ছেলে আটককৃত সিজিল মিয়া (৩৭), সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার জালিয়া এলাকার আব্দুল ছবুরের ছেলে মো. নূরুল বারী বাবলু (৩৩)।
উদ্ধার করা সব মালামাল জব্দ তালিকামূলে জব্দ করা হয়েছে বলে ডিবি জানিয়েছে। এছাড়া ঘটনায় আরও অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি পলাতক রয়েছে; তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
