ছবি: সংগৃহীত
দেশের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে ছায়ানট ভবনের সামনে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ ও সাংগীতিক প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংহতি প্রকাশে আয়োজন করা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন ছায়ানটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, চারুশিল্পী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, লেখক, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ।
ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, ‘১৮ ডিসেম্বর রাতে দুষ্কৃতকারীদের হামলায় ছায়ানট ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন জ্বালানো হয়েছে। দেশের সংস্কৃতি ও শিল্পী সমাজকে লক্ষ্য করে এ ধরনের সহিংসতা চলমান। আমাদের আজকের এই আয়োজন দেশের সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার সুরক্ষায় সংহতি প্রকাশের একটি শক্তিশালী বার্তা।’
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় ‘ও আমার দেশের মাটি’ গান দিয়ে। সেখানে উপস্থিত শিল্পীরা তবলা, হারমোনিয়াম ও খোল, তবলা বাজিয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন। গানগুলোর মধ্যে ছিল, ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি’, ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’, ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম, মোরা ঝরনার মতো চঞ্চল’, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চল রে’, ‘মানুষ ছাড়া খ্যাপা রে তুই মূল হারাবি’, ‘আমার প্রতিবাদের ভাষা, আমার প্রতিরোধের আগুন’, ‘হিমালয় থেকে সুন্দরবন হঠাৎ বাংলাদেশ’ প্রভৃতি।
ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা বলেন, ‘সংহতি প্রকাশে শিল্পী ও সমাজের সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন। সবার এই সম্মিলিত সংহতি আমাদের সাহসী ও অনুপ্রাণিত করেছে। এখন সবাইকে জোটবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে।’
প্রতিবাদী এই সাংগীতিক আয়োজনটি গোছানো ও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন হয়। উপস্থিতরা গান গাইতে গাইতে দেশপ্রেম, মানবতা ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় বার্তা সম্প্রসারণ করেন।
সমাবেশটি জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ দিয়ে সমাপ্ত হয়।
এ আয়োজনের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ একত্র হয়ে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জাতিসত্তার সুরক্ষায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
