বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নে বড় পরিবর্তন, জোট সঙ্গীদের ছাড় একাধিক আসন
প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:০১
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে ঘোষিত মনোনয়ন তালিকায় একাধিক পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে কয়েকটি আসন ছেড়ে দিয়েছে দলটি।
সমঝোতার অংশ হিসেবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে ঢাকা-১২ আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ আসনে আগে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরবকে।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও আকবর শাহ-পাহাড়তলী আংশিক) আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর শনিবার সকালে তিনি সীতাকুণ্ডের নিজ বাড়িতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, দল তার ওপর যে আস্থা রেখেছে, তা নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের ত্যাগের ফল।
চট্টগ্রাম-১০ আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে তাকে চট্টগ্রাম-১১ আসনে প্রার্থী করা হয়। গত ৩ নভেম্বর প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার সময় চট্টগ্রাম-১১ আসনটি ফাঁকা রাখা হয়েছিল। অপরদিকে চট্টগ্রাম-১০ আসনে নতুন করে বিএনপির প্রার্থী করা হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাইদ আল নোমানকে। তিনি বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে।
অন্যদিকে যশোর জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতেই প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া প্রার্থীদের পরিবর্তন করেছে বিএনপি। যশোর-১ (শার্শা) আসনে প্রথমে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে। পরে সেখানে শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া, অভয়নগর উপজেলা ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনে প্রথমে মনোনয়ন পান দলের কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ূব। পরে তার পরিবর্তে মনোনয়ন দেওয়া হয় অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজীকে।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে প্রাথমিকভাবে বিএনপির মনোনয়ন পান উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন। পরে জোটের শরিক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের (একাংশ) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে ওই আসনের মনোনয়ন দেওয়া হয়।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে প্রথমে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। পরে তাকে পরিবর্তন করে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
এদিকে পিরোজপুর-১ (নাজিরপুর, পিরোজপুর সদর ও জিয়ানগর) আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এর আগে এ আসনে বিএনপি জোটভুক্ত জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। এতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি মোস্তফা জামাল হায়দারের বার্ধক্য ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পরিবর্তন করে বিএনপির দলীয় প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়।
বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় এসব পরিবর্তন ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
