শিরোনাম
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল মালয়েশিয়ায় লরি দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নি হ ত, একজন গুরুতর আ হ ত শিশু নিবাসগুলো সরকারি সম্পদ তৈরির কারখানা: জেলা প্রশাসক জকিগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু ‘এখন সকাল-বিকাল দল থেকে ফোন আসে মন্ত্রীত্ব দিবে, আসনটি ছেড়ে দেবার জন্য’-রুমিন ফারহানা  চলতি মাসেই আংশিক নতুন পে-স্কেল চালুর আভাস চট্টগ্রাম শহরে ৩৩০ ‘দু/ষ্কৃতকারীর’ অবস্থান ও প্রবেশ নি ষি দ্ধ টাঙ্গুয়ার হাওরসহ জলাভূমির প্রকৃতি রক্ষায় নতুন পদক্ষেপ নিল সরকার ইরানের প্রশংসায় ট্রাম্প ফাঁকা ৪৭ আসন নিয়ে জামায়াতের জোটে নয়া আলোচনার সূচনা

https://www.emjanews.com/

12563

national

প্রকাশিত

২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৪৯

জাতীয়

কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নারী ও শিশুসহ আহত ৪

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৪৯

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মাদ্রাসার একতলা ভবনের পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষের দেয়াল উড়ে যায় এবং নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হন।

পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, রাসায়নিক দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে- গোলবল জাতীয় কথিত বোমা, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাইপ বোমা, শর্টগানের সীসা গুলি, সাদা রংয়ের পাউডার (বোমা তৈরির কথিত কাঁচামাল), কেমিক্যাল কনটেইনার, বৈদ্যুতিক ড্রিল মেশিন, হাতুড়ি, টাকা গণনার মেশিন, সিলভার রঙের একটি ফিঙ্গার স্টেপ চাকু, হ্যান্ডকাফ, স্পাই ক্যামেরা, বিভিন্ন ধর্মীয় বই, প্লাস্টিকের পুরুষাঙ্গ, সেক্স জেল, গ্লিসারিন, পুলিশের বেল্ট, ওয়্যারলেস সেটের চার্জার এবং রিমোট কন্ট্রোল চাবির রিং।

উদ্ধার করা ককটেলগুলো দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন ঝিলমিল এলাকার একটি ফাঁকা স্থানে নিয়ে গিয়ে বোম ডিস্পোজাল ইউনিটের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করছে এবং অভিযান এখনো চলমান। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক জাকির হোসেন জানান, হঠাৎ বিকট শব্দের সঙ্গে একটি ইটের মতো বস্তু তার মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভবনের মালিক পারভিন বেগম বলেন, ‘২০২২ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরে মুফতি হারুন নামের এক ব্যক্তি মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য ভবনটি ভাড়া নেন। প্রায় তিন বছর ধরে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করা হচ্ছিল। আলামিন ও তার স্ত্রী আছিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। মুফতি হারুন মাঝে মধ্যে সেখানে আসতেন।’

বিস্ফোরণে মাদ্রাসা ভবনের আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, জানালার কাঁচ ভেঙে যায় এবং দেয়ালের একটি অংশ উড়ে পড়ে। আশপাশের এলাকায় কাঁচ ও দেয়ালের টুকরা ছড়িয়ে পড়ে। পাশের মোহাম্মদ হোসেনের মালিকানাধীন ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ঘটনায় মাদ্রাসাশিক্ষক আলামিনের দুই ছেলে উমায়েদ (১০) ও আবদুল্লাহ (৮), মেয়ে রাবেয়া (৬) এবং পাশের একটি সিএনজি গ্যারেজের শ্রমিক জাকির হোসেন (৪৫) আহত হয়েছেন।