শিরোনাম
পৌষসংক্রান্তিতে শেরপুরে শতবর্ষী মাছের মেলা তিন শর্ত মেনে অঙ্গীকারনামা দিতে বলায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ফের বাড়তে পারে শীত, ১০ জেলায় তাপমাত্রা নামার আশঙ্কা জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট সিলেটে বিনামূল্যে ঠোঁট ও তালুকাটা রোগীদের প্লাস্টিক সার্জারির উদ্বোধন সিলেটে দোকানে গ্যাস নেই, বাড়িতে বিশাল মজুত : জ রি মা না সিলেটে পৃথক অভিযানে আ-ট-ক তিন : ৬ লাখ টাকা, চো-রা-ই মোটরসাইকেল উ-দ্ধা-র সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শাটডাউন চলছে : হয়নি ক্লাস-পরীক্ষা সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অনির্দিষ্টকালের শাটডাউন কাশ্মীরের শাক্সগাম উপত্যকাকে নিজের ভূখণ্ড দাবি করল চীন

https://www.emjanews.com/

13039

sylhet

প্রকাশিত

১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১২:১৫

আপডেট

১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭:২৭

সিলেট

দেশে ছিলেন মোমেন : ‘চেহারা বদলেছি, এটা সিনেমার গল্পের মতো’

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১২:১৫

গণ-অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে যান এবং প্রায় আট মাস দেশের ভেতরেই বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে থাকেন বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন।

সম্প্রতি সাংবাদিক সুলতানা রহমানের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল টক শোতে অংশ নিয়ে ড. মোমেন আত্মগোপনে থাকা ও দেশ ছাড়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সরকার পতনের পর অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হন। ওই সময় ধরা পড়ার আশঙ্কায় একাধিকবার বাসা পরিবর্তন করেন এবং ছয়বার মোবাইল ফোনের সিম বদলান। নিজের চেহারাও পরিবর্তন করেন বলে জানান তিনি।

ড. একে আব্দুল মোমেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ছোট ভাই। তিনি ২০১৮ সালে সিলেট-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হলেও নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হননি।

টক শোতে ড. মোমেন বলেন, আত্মগোপনে থাকার সময় তিনি আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে না থেকে বিভিন্ন ভাড়া বাসায় অবস্থান করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বাসা সাধারণত বিদেশি ক্রেতাদের জন্য প্রস্তুত রাখা হতো, তবে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সেগুলো ফাঁকা থাকায় সেখানে থাকা তুলনামূলক নিরাপদ ছিল। মবের হামলার আশঙ্কায় তিনি নিজের চেহারা পরিবর্তন করেন এবং নাপিত আনার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করেন বলে জানান।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ব্যবস্থা মূলত তাঁর স্ত্রীই করেন এবং আত্মগোপন ও দেশ ছাড়ার ক্ষেত্রে তিনি সরকারি পর্যায়ের কিছু লোকের সহযোগিতা পেয়েছেন। তবে তিনি বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ছাড়েননি উল্লেখ করে কোন পথে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।

ড. মোমেন আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন এবং কয়েক দিন আগে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকেও আত্মগোপনে যেতে হয় বলে তিনি দাবি করেন। পালিয়ে থাকার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি সিনেমার গল্পের মতো এবং তিনি নিজেকে দেশের শেষ দিকের প্রস্থানকারীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি কোনো অনিয়মে জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন।

টক শোতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন এবং দেশকে অস্থিতিশীলতা ও চরমপন্থা থেকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পাশাপাশি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পেছনে বিদেশি শক্তির ভূমিকা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন এবং বলেন, এ বিষয়ে তিনি আগেও সরকারকে সতর্ক করেছিলেন। এসব মন্তব্য তিনি নিজের বিশ্লেষণ ও মতামত হিসেবে উপস্থাপন করেন।