ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একীভূত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক লোকসানের সম্মুখীন হওয়ায় আমানতকারীদের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে সরকার ‘ইহসান’ বা অনুদান হিসেবে চার শতাংশ হারে মুনাফা প্রদান করছে। চলতি মাস থেকে আমানতের ওপর সর্বোচ্চ ৯.৫০ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হবে এবং মাসিক মুনাফার পুরো টাকা আমানতকারী উত্তোলন করতে পারবেন।
মতিঝিলে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষা করা। সকল আমানতকারীর মূল টাকা নিরাপদ রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রতিযোগিতামূলক হারে বিদ্যমান ও নতুন সব আমানতকারীদের মুনাফা দেবে। এক বছরের বা তার বেশি মেয়াদী সঞ্চয় হিসেবে গ্রাহকরা বাজার ভিত্তিক মুনাফা পাবেন। জানুয়ারির মুনাফা ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স, ২০২৫ অনুযায়ী, আমানতকারীদের অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। চলতি ও মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে প্রতি আমানতকারী দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন। মেয়াদপূর্তির পর বাকি অর্থ ধাপে ধাপে দুই বছরের মধ্যে দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতি ৬ মাস অন্তর এক লাখ টাকা করে আমানতকারীরা ঋণও নিতে পারবেন।
গভর্নর আশ্বাস দিয়েছেন, রেজল্যুশন স্কিম কার্যকর হলে পুরনো ও নতুন আমানতকারীদের মধ্যে মুনাফা হারে কোনো বৈষম্য থাকবে না। ব্যাংকের প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে প্রস্তুত করা হচ্ছে। সিস্টেম চালু হলে অনলাইন ট্রান্সফার, এনপিএসবি, ইইফটি, আরটিজিএস, এটিএমসহ সব সাধারণ ব্যাংকিং সেবা ধাপে ধাপে চালু হবে।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এই বাস্তবসম্মত ও ইনসাফভিত্তিক স্কিমের মাধ্যমে আমরা দীর্ঘমেয়াদে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকের কার্যক্রম টেকসই রাখতে সক্ষম হব।’
