https://www.emjanews.com/

13540

sylhet

প্রকাশিত

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯:১৮

সিলেট

সুনামগঞ্জ-২

দিরাই-শাল্লায় ঐক্যের আহ্বান: রাজনৈতিক সদিচ্ছা নাকি নির্বাচনী কৌশল?

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯:১৮

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট হচ্ছে। ঠিক এমন সময়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দীন চৌধুরী ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত প্রার্থী নিরঞ্জন দাস খোকনকে একই মঞ্চে বক্তব্য প্রদানের প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী এড. মোহাম্মদ শিশির মনির। এই আহ্বান স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে- এটি কি নিছক ঐক্যের বার্তা, নাকি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল?

দিরাই-শাল্লা রাজনৈতিকভাবে একটি সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক এলাকা। এখানে একদিকে বিএনপির শক্ত সংগঠন রয়েছে, অন্যদিকে বামপন্থি রাজনীতিরও একটি নির্দিষ্ট সামাজিক ভিত্তি আছে। পাশাপাশি ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাবও উপেক্ষণীয় নয়। ফলে এই আসনে নির্বাচন মানেই কেবল ব্যক্তি নয়, আদর্শের প্রতিযোগিতা। এই বাস্তবতায় প্রতিদ্বন্দ্বী আদর্শের প্রার্থীদের একই মঞ্চে আহ্বান একটি অপ্রচলিত ঘটনা। সাধারণত নির্বাচনী রাজনীতি এখানে মুখোমুখি সংঘাত ও বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আহ্বানের মাধ্যমে শিশির মনির নিজেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি। বরং তিনি একটি ‘সবাইকে নিয়ে কথা বলা যায়’-এমন ইমেজ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

এটি দুইভাবে দেখা যেতে পারে। একদিকে এটি রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও সহনশীলতার বার্তা। অন্যদিকে এটি কৌশলগতভাবে একটি ‘নৈতিক উচ্চতা’ (moral high ground) অর্জনের প্রচেষ্টা, যেখানে আহ্বান গ্রহণ না করলে প্রতিপক্ষদের ওপর দায় বর্তায়।

এই আহ্বান বিএনপি ও কমিউনিস্ট প্রার্থীদের সামনে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আহ্বানে সাড়া দিলে তাঁরা একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা দিতে পারবেন, তবে একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের তৈরি মঞ্চে অংশ নেওয়ার রাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে। আবার সাড়া না দিলে ভোটারদের একাংশের কাছে এটি অনমনীয়তা বা নেতিবাচক মনোভাব হিসেবেও প্রতীয়মান হতে পারে।

বিশেষ করে বিএনপির মতো বড় দল সাধারণত নিজস্ব কর্মসূচি ও শক্তির ওপর নির্ভর করেই মাঠে থাকতে চায়। ফলে এই আহ্বান গ্রহণ করা তাদের জন্য সহজ সিদ্ধান্ত নয়।

সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁদের মতে, একই মঞ্চে বক্তব্য মানে কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ। তবে আরেক অংশ এটিকে নিছক নির্বাচনী কৌশল হিসেবেই দেখছেন- যেখানে ‘ঐক্য’ শব্দটি ব্যবহার হলেও মূল লক্ষ্য ভোটের হিসাব।

এই আহ্বান শেষ পর্যন্ত গৃহীত হোক বা না হোক, এটি দিরাই-শাল্লার নির্বাচনী আলোচনায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রশ্ন সামনে এনেছে- নির্বাচন কি শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নাকি সহাবস্থানের চর্চাও হতে পারে?

সবশেষে বলা যায়, এই আহ্বান হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে রাজনৈতিক ঐক্য তৈরি নাও করতে পারে, তবে এটি ভোটারদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রেখে গেছে- কে কেমন রাজনীতি চর্চা করতে চান।

নির্বাচনের ফল যাই হোক, দিরাই-শাল্লার রাজনৈতিক আলোচনায় এই উদ্যোগ একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবেই থেকে যাবে।