https://www.emjanews.com/

13546

national

প্রকাশিত

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২১:২৫

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২১:২৫

ছবি: তারেক রহমান

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শীর্ষ দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে সাময়িকীটি লিখেছে, ‘খ্যাতনামা এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শীর্ষ দাবিদার।’

বিশ্লেষণে বলা হয়, এই নির্বাচন হবে ১৮ মাস আগে সংঘটিত এক ‘বিপ্লব’-এর পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ওই সময় ‘জেনারেশন জেড’-এর আন্দোলনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক মেরামতের পথ খুলে দেবে।’

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এই পূর্বাভাস এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন ও ব্লুমবার্গ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুরূপ বিশ্লেষণের পর। সাময়িকীটি ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনাও বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি যখন রাজধানীতে ফিরছিলেন, তখন উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে আসেন এবং বাসটি কয়েক মাইল পথ ধীর গতিতে চলে, যাতে সমর্থকেরা তাকে কাছ থেকে দেখতে পারেন।

দ্য ইকোনমিস্ট দাবি করেছে, ‘২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন হয়নি এবং দেশের প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ কখনো প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি।’

নিরাপত্তাবিষয়ক থিঙ্কট্যাংক বিআইপিএসএসের শাফকাত মুনিরকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমার জীবনের দুই দশক ধরে আমার ভোটের কোনো মূল্য ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে রাজধানীর রাস্তাঘাটজুড়ে নির্বাচনী ব্যানার শোভা পাচ্ছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচন তত্ত্বাবধানই হবে শেষ দায়িত্ব। দ্য ইকোনমিস্টের মতে, ‘অধিকাংশ মানুষ একমত যে, এই সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করেছে।’

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার রাজনীতিকদের সঙ্গে কাজ করে এমন সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে পতন ঠেকাতে সহায়ক হবে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- নতুন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা।

জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটি নির্বাচিত হলে ‘সব বাংলাদেশির জন্য সংযতভাবে শাসন করবে’ বলে দাবি করলেও তাদের অগ্রগতি শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।সাময়িকীটি উল্লেখ করেছে, দলটি এবারের নির্বাচনে একজনও নারী প্রার্থী দেয়নি। এছাড়া, যে দলটি আগে কখনও সংসদে ১৮টির বেশি আসন পায়নি, তাদের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দ্য ইকোনমিস্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এই পরিস্থিতি তারেক রহমানের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে, কারণ তার বিএনপি জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।’

দ্য ইকোনমিস্ট স্মরণ করিয়ে দেয়, বহু বছর ধরে বিএনপি পরিচালিত হয়েছে তার প্রয়াত মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাধ্যমে। এর আগে দলটি পরিচালনা করেছিলেন তার বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি ১৯৮১ সালে নিহত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে তিনবার ক্ষমতায় আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমান বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ না করলেও নির্বাচিত হলে বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি পানির সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং বছরে পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও বলেছেন।

দ্য ইকোনমিস্ট লিখেছে, তারেক রহমান মনে করেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বেশ দক্ষ, বাস্তববাদী- তিনি একজন ব্যবসায়ী।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিচার হতে হবে। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের বিপ্লব দেখিয়েছে, যেসব সরকার জনগণের জন্য কোনো কর্মসূচি রাখে না, তাদের পরিণতি কী হতে পারে। প্রতিশোধপরায়ণ হওয়া কারও জন্যই ভালো নয়।’

প্রতিবেদনের শেষাংশে দ্য ইকোনমিস্ট উল্লেখ করেছে, দেশে ফেরার পর থেকে তারেক রহমান মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে এখনো অনেকেই ‘অফ দ্য রেকর্ড’ কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, অন্য পক্ষ ক্ষমতায় এলে কী হবে- এই আশঙ্কায়।

সাময়িকীটি লিখেছে, ‘পর্যবেক্ষকদের মতে, লন্ডন থেকে ফিরে আসা এই মানুষটিকে আগের চেয়ে ভিন্ন মনে হচ্ছে।’