ছবি: শফি আহমদ চৌধুরী
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কৃত বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে চার বছর পর তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দিয়েছে দলটি।
গেলো মঙ্গলবার শফি আহমদ চৌধুরীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে প্রাথমিক সদস্যপদে পুনর্বহাল করা হয়। তবে বিষয়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শফি চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন রাজু আহমদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে জানানো হয়।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত কেন্দ্রীয় দপ্তরের এক চিঠিতে শফি আহমদ চৌধুরীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় দপ্তরের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপের কারণে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শফি আহমদ চৌধুরীকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালের ১৫ জুন দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শফি আহমদ চৌধুরী সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ ঘটনায় একই দিন তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি নোটিশের জবাব দিলেও তা দলীয়ভাবে ‘গ্রহণযোগ্য ও সন্তোষজনক’ না হওয়ায় ১৯ জুন তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।
উল্লেখ্য, বিএনপির মনোনয়নে সিলেট-৩ আসনে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ওই উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে শফি আহমদ চৌধুরী জামানত হারান।
এদিকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শফি আহমদ চৌধুরী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির যেকোনো দুর্দিনে কিংবা সুদিনে ছিলাম, বর্তমানেও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব, ইনশা আল্লাহ। জিয়া পরিবারের একমাত্র উত্তরসূরি তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ আগামীতে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ।’
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের মাধ্যমে শফি আহমদ চৌধুরীর রাজনৈতিক কার্যক্রমে নতুন অধ্যায় শুরু হলো বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
