শিরোনাম
এবার রোজা সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ ঘণ্টা শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত ‘পাশা’র ১০ হাজার পর্যবেক্ষক কার্ড স্থগিত করল ইসি ইরানে সংকট তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছিল: মার্কিন অর্থমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি মার্কিন মানচিত্রে পুরো কাশ্মীরকে ভারতের অংশ দেখানোয় নতুন বিতর্ক হজের জন্য ভিসা ইস্যু শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি অন্তিম সময়ে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত একটি গোষ্ঠী: আরিফুল হক চৌধুরী ৫ বছরে এই দেশের চেহারা পাল্টে যাবে : সিলেটে ডা. শফিকুর রহমান পোস্টাল ভোট দিলেন প্রায় অর্ধশত ‘ভিআইপি’ বন্দি জনগণের টাকা যারা চু রি করেছে, তাদেরকে শান্তিতে থাকতে দেবো না : ডা. শফিকুর রহমান

https://www.emjanews.com/

13644

sylhet

প্রকাশিত

০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:০৪

সিলেট

হবিগঞ্জ-৪

চা বাগানে নির্বাচনী উৎসব, ধানের শীষে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিকরা

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০:০৪

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

আর মাত্র পাঁচ দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের নির্বাচনী মাঠ। বিশেষ করে এ আসনের ২৩টি চা বাগানে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর চা শ্রমিকদের মধ্যে এমন প্রাণচাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব সৈয়দ মোঃ ফয়সল এবং তাঁর দুই ছেলে- চা শ্রমিক কাণ্ডারি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ ও ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের ধারাবাহিক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও প্রতিশ্রুতিতে চা বাগান এলাকায় নতুন রাজনৈতিক জোয়ার তৈরি হয়েছে। তাদের প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন।

স্থানীয় চা শ্রমিকরা জানান, অতীতের কোনো নির্বাচনে চা বাগানে ধানের শীষের পক্ষে এত ব্যাপক সাড়া দেখা যায়নি। এবারের প্রচারণায় প্রার্থী ও তাঁর পরিবার সরাসরি শ্রমিকদের পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে কথা বলেছেন, তাদের সমস্যা শুনেছেন এবং সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এতে শ্রমিকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে এবং তারা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন।

তাদের মতে, আলহাজ্ব সৈয়দ মোঃ ফয়সল ও তাঁর দুই ছেলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাগানের দুর্গম এলাকাগুলোতে ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়েছেন। শীত ও উঁচু-নিচু পথ পেরিয়ে তারা শ্রমিকদের ঘরে ঘরে গেছেন। এই সরাসরি যোগাযোগ চা বাগানের ভোটারদের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটাররা সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত হয়েছেন। অনেক তরুণ ভোটার জানিয়েছেন, তারা স্থায়ী কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের সুযোগ চান।

এ বিষয়ে সরেজমিনে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে কথা হয় নারী শ্রমিক শেফালি সাঁওতালের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল এবং তাঁর দুই ছেলে- সৈয়দ শাফকাত ও সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ আমাদের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন। তারা আমাদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন। তাই আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

চানপুর চা বাগানের নারী নেত্রী খায়রুন আক্তার বলেন, ‘এবার ধানের শীষের প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা ও চা শ্রমিকদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়ন। এ কারণেই শ্রমিকরা একতাবদ্ধ হয়েছেন। রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি  ২৪টি চা বাগানের শ্রমিকরা সুরমা চা বাগানের ১০ নম্বর মাঠে মিলিত হয়ে একসঙ্গে সভা করবেন এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। সবাই মিলে উৎসবমুখর পরিবেশে নেচেগেয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে সৈয়দ মোঃফয়সলকে সংসদে পাঠাতে চাই। যেখানে তিনি অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হবেন।’

শনিবার সকালে নোয়াপাড়া চা বাগানে গণসংযোগকালে চা শ্রমিক কাণ্ডারি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও চা শ্রমিকদের ভাগ্যের তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। তারা এখনও চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন। অথচ তারা অত্যন্ত কর্মঠ। সামান্য সহযোগিতা পেলে তারা দেশের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হতে পারেন। বিএনপি এই আসনে জয়ী হলে এবং সরকার গঠন করলে চা শ্রমিকদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’