খুলনা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি, পরে ভাঙ'চুর ও অ'গ্নিসংযোগ
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২১:১৪
ছবি: সংগৃহীত
গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকা খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো দলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরের লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত কার্যালয়ে প্রবেশ করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একদল নেতা–কর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় তাঁরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা দেন। পাশাপাশি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
কার্যালয়ে উপস্থিত এক নেতা, যিনি খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচিত, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা কোনো আলাদা আয়োজন করে দলীয় কার্যালয়ে যাইনি। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে খুলনাতেও আমরা গেছি। বিকেল চারটার দিকে কার্যালয়ে প্রবেশ করি। তালা ভেঙে ওপরে উঠে জাতীয় পতাকা টাঙাই এবং বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবিতে মালা দিই। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পরে নতুন করে তালা লাগিয়ে চলে আসি, যাতে পরে আবার যেতে পারি। কেউ আমাদের বাধা দেয়নি।”
তিনি আরও দাবি করেন, দলীয় কোনো নির্দেশনা নয়, তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের উদ্যোগেই তাঁরা সেখানে যান। তাঁর ভাষ্য, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ আছে, আমরা ঐক্যবদ্ধ। আগামী যেকোনো কর্মসূচির জন্য প্রস্তুত আছি, শুধু নেতৃত্বের অপেক্ষা। আমাদের সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জন কর্মী ছিলেন। সবাই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী। বড় কোনো নেতা সেখানে ছিলেন না।’
তবে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভিডিওতে সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি টি এম আরিফ ও সদর থানা আওয়ামী লীগ নেতা মো. রুবেলের উপস্থিতি দেখা গেছে।
খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এত দিন দেশে অবৈধ সরকার ও মবের রাজত্ব চলছিল। এখন একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আমাদের রাজনৈতিক অধিকার আছে। আমরা মনে করছি, কার্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত সরকার একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেবে। শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করতে পারব বলে আশা করছি।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর এক দিন আগে, ৪ আগস্ট মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এরপর দীর্ঘদিন সেখানে কাউকে যেতে দেখা যায়নি।
এদিকে রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে আবারও আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় কাঠের দরজা ও কার্যালয়ের ভেতরে থাকা কাগজপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
