নিউইয়র্কে করোনা ত্রাণ তহবিল আত্মসাৎ: ৮ ব্ংলাদেশির দোষ স্বীকার
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮:৩৭
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে করোনা মহামারির সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা রাজ্য সরকারের ত্রাণ তহবিল আত্মসাতের ঘটনায় ৯ আসামি দোষ স্বীকার করেছেন। এদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত।
আসামিরা ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কুইন্স সুপ্রীম কোর্ট-এ দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাঁদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ ডলার জরিমানা করেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার ফেরত দিয়েছেন আসামিরা।
১৩ ফেব্রুয়ারি এক যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান মেরিন্ডা ক্যাটজ ও লুসি লাং। কর্তৃপক্ষ আসামিদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করলেও ছবি প্রকাশ করা হয়নি।
আসামিরা হলেন- মাহবুব মালিক (৪১), তোফায়েল আহমেদ (৫০), ইউসুফ এমডি (৪৫), মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফ (৬৮), জাকির চৌধুরী (৫৯), মোহাম্মদ খান (৪৯), তানভীর মিলন (৫৫), জুনেদ খান (৫৬) এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নাদিম শেখ (৫৬)।
সরকারি তদন্তে জানা যায়, ২০২০ সালের জুন থেকে আসামিরা নিউইয়র্ক স্টেটের এম্পায়ার স্টেট ডেভেলপমেন্ট পেনডেমিক স্মর বিজনেস রিকভারি গ্রান্ট প্রোগ্রাম-এর আওতায় একাধিক ভুয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে অনুদানের আবেদন করেন।
আবেদনে তাঁরা উল্লেখ করেন, প্রাপ্ত অর্থ কর্মচারীদের বেতন, অফিস ভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ও ব্যবসায়িক সরঞ্জাম কেনার কাজে ব্যয় করা হবে। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে, সরকারি অর্থ পাওয়ার পরপরই অধিকাংশ টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।
ব্যাংক রেকর্ড ও কর নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, তহবিল পাওয়ার আগে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না।
কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ বলেন, ‘মহামারির মতো নজিরবিহীন সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বরাদ্দ করা তহবিল চুরি করা গুরুতর অপরাধ। দোষ স্বীকারের মাধ্যমে আসামিরা এখন ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।’
নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং বলেন, ‘দুর্যোগকালীন তহবিল ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করা অপরাধ এবং এটি জনস্বার্থের পরিপন্থী।’
নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেলের অফিস ২০২৪ সালের মে মাসে তদন্ত শুরু করে এবং পরে মামলাটি কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ জানার পর আসামিরা ২০২৫ সালের ৬–৯ মে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আসামি জাকির চৌধুরীকে কুইন্স কাউন্টি ক্রিমিনাল কোর্ট ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইতোমধ্যে ৭৫ হাজার ডলার পরিশোধ করেছেন এবং আগামী ২৩ মার্চের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধ করবেন বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি চাইলে ট্রায়ালে যেতে পারতাম। কিন্তু এতে তিন বছর সময় লাগত এবং বদনামের ভাগীদার হতাম। তাই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করেছি। এখন বিষয়টি সরকারের নির্দেশে মীমাংসা হয়ে গেছে।’
জাকির চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, তাঁর সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফ তাঁর অফিসের নাম ব্যবহার করে অনুদান গ্রহণ করেন এবং অর্থের অর্ধেক নিয়ে যান।
অন্য আসামি মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফ বলেন, ‘কোর্টের নির্দেশনা পাওয়ামাত্র আমিই প্রথম ৭০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছি। বিষয়টি ইতোমধ্যে সমাধান হয়ে গেছে।’
এই ঘটনাকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে করোনা ত্রাণ তহবিল সংক্রান্ত বড় ধরনের প্রতারণামূলক মামলাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
