ছবি: আইজিপি বাহারুল আলম
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এ। তবে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে কি না-সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
জানা গেছে, রোববার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও নিয়মিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আইজিপি বাহারুল আলম। ওই সভায় তিনি কর্মকর্তাদের নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তারা তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন। বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু না বললেও দুপুরের দিকে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইজিপির পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার কোনো খবর পাইনি। তবে তার পদত্যাগপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পেয়েছে বলে শুনেছি।’
তিনি আরও জানান, গত জানুয়ারিতে আইজিপি তার সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে রদবদল হয়। এর ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ২১ নভেম্বর বাহারুল আলমকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি ২০২০ সালে পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরে যান।
অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে আইজিপি পদে নিয়োগ দেয়। সে অনুযায়ী চলতি বছরের ২০ নভেম্বর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরপরই দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে আইজিপি ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে রোববার দুপুরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পাঠান।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে চাচ্ছে না সরকার। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিতেই পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত তা গ্রহণ করা হবে না, ততক্ষণ তিনি আইজিপি হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকার আগামী মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার পর আইজিপিকে তার পদত্যাগপত্র নতুন সরকারের কাছে পুনরায় উপস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সবকিছু মিলিয়ে আইজিপির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি সময় ও নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
