https://www.emjanews.com/

14024

sylhet

প্রকাশিত

২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪:০২

আপডেট

২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪:২৪

সিলেট

সিলেটে বাড়ছে মশার উৎপাত: ওষুধে ২০ ভাগ ম/রে, ৮০ ভাগ উড়ে যায়

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪:০২

শীতের বিদায় ও ফাল্গুনের শুরু থেকেই সিলেট নগরীতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে মশার উপদ্রব। সন্ধ্যা নামার আগেই বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট সবখানেই মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী। মশা মারতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) ছিটানো ওষুধেও কাজ হচ্ছে না- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে সিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা ভেবে অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার এবং চরম বাজেট ও লোকবল সংকটের কারণেই মশা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সম্প্রতি নগরীতে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম। মশক নিধন কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা, ওষুধের কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি।

ঈদের আগেই পুরো নগরীতে ওষুধ ছিটানোর লক্ষ্য

বর্তমানে মশক নিধন কার্যক্রমের বিষয়ে ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে রমজান মাসে ইফতারের আগে ফগিং (ওষুধ ছিটানো) করতে গিয়ে আমাদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। অনেকে বলেন, এতে রোজা হালকা হয়ে যাবে। তারপরও আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। আশা করছি, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পুরো সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ওষুধ ছিটানোর কাজ শেষ হবে।”

ওষুধে কেন মশা মরে না?

নগরবাসীর সবচেয়ে বড় অভিযোগ- সিসিকের ছিটানো ওষুধে মশা মরে না। এ প্রসঙ্গে সিসিকের এই প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, “ফগার মেশিনে যে ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তা মূলত দুই ধরনের হয়- একটি ‘হিউম্যান প্রোডাক্ট’ (মানুষের জন্য সহনশীল) এবং অন্যটি ‘এগ্রিকালচার প্রোডাক্ট’ (কৃষিকাজে ব্যবহৃত কড়া বিষ)। হিউম্যান প্রোডাক্টের বিষের মাত্রা এগ্রিকালচার প্রোডাক্টের চেয়ে কিছুটা কম থাকে। এর দামও বেশি। কিন্তু এটি পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি করে না। আমরা নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করেই মূলত হিউম্যান প্রোডাক্ট ব্যবহার করে থাকি। একারণেই হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে মশা মরে যাওয়ার হার কিছুটা কম মনে হয়।”

তিনি মশক নিধনের বৈজ্ঞানিক দিক তুলে ধরে আরও বলেন, “আরেকটা বড় সমস্যা হলো, ফগিং বা ধোঁয়া ছিটানোর সময় মাত্র ২০ ভাগ মশা মরে। বাকি ৮০ ভাগ মশা উড়ে গিয়ে এলাকার খালি জায়গায় বা ঝোপঝাড়ে আশ্রয় নেয়। অন্যদিকে, লার্ভিসাইড (লার্ভা ধ্বংসের ওষুধ) ছিটালে ৫০ ভাগ মশা মারা যায়। মশা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে ১৫ দিন পর পর করতে হয়। কিন্তু আমাদের সেই সক্ষমতা নেই।” “তবে মশা পুরোপুরি নিধন সম্ভব না, ৫ ভাগ মশা থেকেই যাবে” যোগ করেন তিনি।

বাজেট মাত্র ২ কোটি, দরকার ২০ কোটি!

ধারাবাহিকভাবে মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে না পারার পেছনে চরম অর্থ ও লোকবল সংকটকে দায়ী করেছেন ডা. জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমাদের পুরো এলাকায় ওষুধ ছিটানোর মতো পর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতি নেই। সবচেয়ে বড় সংকট হলো অর্থের। পুরো সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৫ দিন পর পর ওষুধ ছিটাতে হলে বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকার ওষুধের প্রয়োজন। অথচ আমরা বছরে বাজেট পাচ্ছি মাত্র ২ কোটি টাকা! এই সামান্য বাজেট দিয়ে সারা বছরে বড়জোর ২ থেকে ৩ বার ওষুধ ছিটানো যায়।”

বড় বাধা ঢাকা ড্রেন

কিউলেক্স মশার প্রধান প্রজননস্থল হলো ড্রেন ও ছড়ার বদ্ধ পানি। এসব পরিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ড্রেন, ছড়া ও খাল পরিষ্কারের কার্যক্রম নিয়মিত চলছে। তবে মশার ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হলো, সিলেট নগরীর বেশিরভাগ ড্রেনই ওপর থেকে স্ল্যাব দিয়ে ঢাকা। ড্রেনগুলো ঢাকা থাকায় সেখানে ফগার মেশিন বা লার্ভিসাইডের ওষুধ ঠিকমতো পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ফলে ভেতরে মশা নিরাপদে বংশবিস্তার করতে পারে।”

যা বলছেন নতুন প্রশাসক

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। শুরুতেই তিনি মশামুক্ত নগরী গড়ার দিকে ‍গুরুত্ব দিচ্ছেন। যোগদানের প্রথম দিন তিনি বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে চাই। নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মশামুক্ত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে চাই।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনেই ডেঙ্গুর মৌসুম। এখনই যদি কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রজননস্থলগুলো ধ্বংস করা না যায়, তবে বর্ষার আগে এডিস মশার প্রজনন বেড়ে গিয়ে সিলেটে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এজন্য সিসিকের বাজেট বৃদ্ধি এবং নগরবাসীকেও নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।