ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সেচ সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। উপজেলার কিছু অঞ্চলে ধানের জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে, আর পানির স্তর নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েল থেকেও সহজে পানি মিলছে না।
সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জমিতে চাষ করা হয়েছে বোরো ধান। সেচ না থাকায় জমিতে ফাটল ধরেছে। এর সঙ্গে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েল থেকে মিলছে না পানি। বাসিন্দারা অনেকে দূর থেকে পানের পানি সংগ্রহ করছেন। যদিও কেউ কেউ গভীরে সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে পানির ব্যবস্থা করেছেন।
জগন্নাথপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, প্রাকৃতিক কারণে বেশ কিছু উপজেলায় ওয়াটার লেভেল নিছে চলে গেছে এর জন্য টিউবওয়েলে পানি আসছেনা। আশা করি বর্ষা মৌসুমে ওয়াটার লেভেল ঠিক হয়ে যায়। গত বছর এই সময়ে বৃষ্টির পরিমাণ ২৪ মিলিমিটার হলেও চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত বৃষ্টি এখনো হয়নি ।
তিনি বলেন, বাড়তি তাপমাত্রা এবং বৃষ্টি না হওয়ায় পানির স্তর নেমে যাওয়ায় সেচে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
খাবার পানিও সহজে মিলছে না টিউবওয়েল থেকে। জমিতে সহজে সেচ দিতে না পারা ও খাওয়াসহসহ ব্যবহারিক পানি না পাওয়ায় বিপাকে চাষিরা ও সাধারণ পরিবারের মানুষ।
জগন্নাথপুর পৌর শহরের জগন্নাথপুর গ্রাম, হবিবপুর, ইকড়ছই, ভবানীপুর, কেশবপুর ইসাহাকপুর সহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা জানান, তাদের উপজেলায় সেচ ও পানের পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ সময় বোরো জমিতে পানি থাকা খুবই প্রয়োজন।
খেত-খামারে কৃষকদের কাজকর্মে হাঁসফাঁস অবস্থা। রিকশা, ভ্যানচালকসহ শ্রমজীবীরা অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠেন। বৈশাখ শুরু হওয়ার আগেই তাপের কারণে মাথার ঘাম পায়ে পড়ছে।
জগন্নাথপুর কৃষি কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় কারণে আমরাও দুশ্চিন্তায় আছি,আমাদের এখানে সেচের কোনো ব্যবস্থা নাই, সেজন্য কৃষককসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
