https://www.emjanews.com/

14247

international

প্রকাশিত

০৮ মার্চ ২০২৬ ২০:১৬

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে পরোক্ষ বার্তা চীনের

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ ২০:১৬

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের সমালোচনা করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একই সঙ্গে ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (৮ মার্চ) বেইজিং-এ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সামরিক শক্তি ব্যবহার করে বর্তমান সংকটের কখনোই সমাধান হবে না। সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক পন্থায় সংকট উত্তরণের ওপর জোর দেন তিনি।

ওয়াং ই বলেন, বিশ্ব আবারও ‘জোর যার মুল্লুক তার’-এমন নীতিতে ফিরে যেতে পারে না। ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-এর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘রঙিন বিপ্লব বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রতি ইরান-এর জনগণের কোনো সমর্থন নেই। মূলত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব।’

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ইরানসহ সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্য-এ সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, যাতে সংঘাত আরও না বাড়ে এবং অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে।

তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি যুদ্ধ যা কখনও হওয়া উচিত ছিল না এবং এই যুদ্ধ কারও কোনো উপকার করছে না। শক্তি কোনো সমাধান দেয় না; সশস্ত্র সংঘাত কেবল ঘৃণা বাড়ায় এবং নতুন সংকট তৈরি করে।’

ওয়াং ই আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণই এই অঞ্চলের প্রকৃত মালিক। তাই এ অঞ্চলের বিষয়গুলো স্থানীয় দেশগুলোকেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া উচিত, বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স কাউন্সিল-এর এক গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হলেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কাঠামো সহজে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম।

কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়ে ওয়াং ই বলেন, সব পক্ষের দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা উচিত এবং সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধান করে যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আরও জানান, চীন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, মানুষের শান্তি নিশ্চিত করা এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়।

এর আগে গত বুধবার (৪ মার্চ) ওয়াং ই ঘোষণা দেন, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যস্থতার জন্য বিশেষ দূত পাঠাবে চীন।