শিরোনাম
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, শিগগিরই যোগদান শুরু ৩ মে থেকে হাওরাঞ্চলে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু করবে সরকার শ্রম খাতের সমস্যা সমাধানে টিমওয়ার্ক চলবে: শ্রমমন্ত্রী ঋণ, পানি আর শ্রমিক সংকটে হাওড়ের কৃষকের দুঃসময় টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জের হাওড়ে বিপর্যয় সিলেট জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে বাণিজ্যমন্ত্রী প্রথম সফরে সিলেটের বড় যে সংকটে নজর প্রধানমন্ত্রীর শ্রমিকরাই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল শক্তি: প্রধানমন্ত্রী বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, নতুন চ্যালেঞ্জে বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জন, গেজেট প্রকাশ

https://www.emjanews.com/

15352

sylhet

প্রকাশিত

০১ মে ২০২৬ ১৯:৩৭

সিলেট

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জের হাওড়ে বিপর্যয়

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ ১৯:৩৭

ছবি: সংগৃহীত

টানা চার থেকে পাঁচ দিনের ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের হাওড়াঞ্চলের কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। হাওড়ে জলাবদ্ধতার কারণে তলিয়ে গেছে পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান, বেড়েছে নদ-নদীর পানিও। এতে চলতি মৌসুমে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।

ইতোমধ্যে জেলার মধ্যনগর উপজেলায় দুটি বাঁধ ভেঙে হাওড়ে পানি ঢুকে ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মধ্যনগরের এরন বিল ও জিনারিয়া বাঁধ ভেঙে তিনটি ছোট হাওড়ে পানি প্রবেশ করেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত বন্ধ থাকলেও দুপুরের পর প্রায় এক সপ্তাহ পর হাওড়াঞ্চলে রোদের দেখা মেলে। তবে এই আবহাওয়া কতক্ষণ স্থায়ী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে পানির নিচে থাকা ধান ভেসে উঠতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে পাকা-আধাপাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বর্তমানে হাওড়ের কৃষকরা দুই ধরনের সংকটে রয়েছেন। অতিরিক্ত পানির কারণে হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে পানিতে নেমে কাজ করতে শ্রমিকরা অনীহা দেখাচ্ছেন। যারা কাজ করছেন, তাদের দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ মজুরি। এতে ধান কাটার খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

দেখার হাওড়পাড়ের কৃষক রবিউল বলেন, ‘এবার ফসল নিয়ে আমরা মহাবিপদে আছি। প্রথমে কাঁচা ও আধাপাকা ধান তলিয়ে যায়, পরে পাকা ধানও পানির নিচে চলে গেছে। সামনে শুধু অন্ধকার দেখছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওমর ফারুক জানান, হাওড়ে পানিতে ১৩ হাজার ৭৯ হেক্টর জমির ধান তলিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৭ হেক্টর জমি। এখন পর্যন্ত জেলায় ৫১ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলার ১৩৭টি হাওড়ে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।

তবে কৃষি বিভাগের তথ্যের সঙ্গে একমত নন কৃষক ও কৃষক সংগঠনগুলো। সুনামগঞ্জ হাওড় ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন দাবি করেন, জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে দোয়ারাবাজার ছাড়া প্রায় সব উপজেলাতেই ধান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, “চলমান সংকটে হাওড়ের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ধান পানির নিচে রয়েছে। আবার বৃষ্টি শুরু হলে বাকি ফসলও নষ্ট হয়ে যাবে।”

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘দুই দিন বৃষ্টি কম হওয়াটা কিছুটা স্বস্তির। বৃহস্পতিবার রোদ ওঠায় কৃষকেরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ে সুবিধা পাবেন। তবে এ আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে কিনা তা নিশ্চিত নয়।’

এদিকে বোরো ধান কাটায় শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় জেলার সব বালুমহাল আরও পাঁচ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর এসএম ইয়াসীর আরাফাত স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৫ মে পর্যন্ত জেলার সব বালুমহালে বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ থাকবে।

প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে ধান কাটার জন্য শ্রমিক সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে সুনামগঞ্জের হাওড়ের কৃষকদের সামনে আরও বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে।